টানা ৪ বছর ধরে ১৪ জনের চাল একাই হজম করেছেন আ’লীগ নেতা মিজান

খুলনা ব্যুরো ॥ খুলনার রূপসায় ১৪টি পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা মূল্যের চাল খেয়ে ফেলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সরদার মিজানুর রহমান। টানা চার বছর ধরেই তিনি এই পরিমান চাল আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার (১ জুন) তার ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং রূপসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাসেম ডাবলুর আপন ভাই। বর্তমানে ডিলার মিজানুর রহমান পলাতক আছেন বলে জানা গেছে।
রূপসা উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরদার মিজানুর রহমান শ্রীফলতলা ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ১০ টাকা মূল্যে বিতরণ করা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ১৪ টি পারিবারে চাল নিয়মিত আত্মসাৎ করে আসছেন।
নাম থাকা সত্বেও চাল না পাওয়া ওই ১৪ ব্যক্তি হলেন, উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের শাহিদ শেখ, মো: সেলিম শেখ, মো: আনিচুর রহমান, সাইদুর রহমান, খালেদা বেগম, মো: জাহিদ মুন্সি, মো: মুকুল শেখ, মো: কামাল শেখ, মো: রফিকুল শেখ, মমতাজ, নাসিম হাওলাদার, ওলিয়র হাসান, আসলাম খাঁ ও মো: ফারুক হাওলাদার।
চাল বঞ্চিতরা জানান, তাদের নাম, ছবি ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড নেয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে। তবে তাদের নামে কার্ড হয়েছে কিনা সেটি তাদের জানানো হয়নি, তারা কখনো ১০ টাকা মূল্যের এই চালও উত্তোলন করেননি।
রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৬ সাল থেকে তাদের এ চাল দেয়া হচ্ছে না, এমনকি তারা জানেনও না যে তাদের নামে কার্ড আছে। সুতারাং ডিলার সরদার মিজানুর রহমান যে তাদের চাল আত্মসাৎ করেছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।
তিনি জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (১ জুন) দুপুরে রূপসা উপজেলা খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি কমিটির সভায় মিজানুর রহমানের ডিলারশীপ বাতিল করা হয়। এছাড়া তার জামানত ২০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। একই সাথে ওই ১৪টি পরিবারের এ যাবৎ কালের ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার কাছ থেকেই তা আদায় করা হবে। এমনকি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চাইলে তার বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করতে পারবেন।

শেয়ার