খেলা বন্ধ, খাঁখাঁ যশোর স্টেডিয়াম

ইমরান হোসেন পিংকু
প্রাণঘাতিক নোভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) স্থবির হয়ে পড়েছে যশোরের ক্রীড়াঙ্গন। ঘরোয়া সব লিগ ও টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে। খাঁখাঁ করছে স্টেডিয়াম। খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠকরা আসছেন না স্টেডিয়াম পাড়ায়। খেলোয়াড় ও সংগঠকরা নিরাপত্তার জন্য আছেন বাসায়। কবে নাগাদ করোনার বিপদ কাটবে, আবার মাঠে গড়াবে খেলা। প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।
যশোর ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার খেলা শুরু করা হবে। ফুটবল, টেবিলটেনিস, ক্রিকেট কোনো খেলাই এখন আর করোনা শঙ্কার বাইরে নেই। করোনার কারণে জেলা ক্রীড়া সংস্থার জেলাভিত্তিক সব ধরনের লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল খেলার কোচিং (প্রশিক্ষণ) বন্ধ করে দিয়েছেন কোচিং সেন্টারগুলো। খেলোয়াড়দের বাইরে অযথা ঘোরাফেরা না করে ঘরে অবস্থান করতে পরামর্শ দিয়েছেন জেলার ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা।
জেলা দলের ভলিবল খেলোয়াড় রিজভী আহমেদ বলেন, আগে কলেজ থেকে ফিরে স্টেডিয়ামে যেতাম ভলিবল প্রশিক্ষণ নিতে। এটা প্রতিদিনের রুটিন ছিল। এখন সেই রুটিন পাল্টে গেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে খেলাধুলা বন্ধ। খেলাও বন্ধ আবার কলেজও বন্ধ। তাই বাড়িতে বসে সারাদিন মোবাইলে ফেসবুক চালাই। আর বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলি।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলোয়াড় সাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন বিকেলে স্টেডিয়ামে যেতাম। খেলাধুলা করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। বিকেল হলেই মাঠে যাওয়ার জন্য মনটা ছটফট করে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ বন্ধ। তাই আর মাঠে যেতে পারছি না।
জেলা দলের ফুটবলার আকাশ হোসেন বলেন, আগে খেলাধুলা করতাম, শরীর ভালো থাকতো। মনে উৎসাহ পেতাম। সেই উৎসাহ কাজে লাগিয়ে লেখাপড়া করতাম। দুই মাস ধরে করোনার কারণে বাসায় থেকে অলস হয়ে গেছি। আর ভালো লাগছে না। সারাক্ষণ ভাবছি, কবে করোনাভাইরাস চলে যাবে, আবার খেলতে পারব।
জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মাশুক মোহাম্মদ সাথী বলেন, ‘আগে কিশোর তরুণরা খেলাধুলার মধ্যে থাকতো। তাদের মধ্যে প্রতিভার বিকাশ ঘটতো। তাদের দ্বারা খারাপ কাজ হতো না। করোনার কারণে এখন খেলাধুলা বন্ধ। কিশোর ও তরণদের প্রতিভার বিকাশ ঘটছে না।
এ প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলেন, যশোর জেলা খেলাধুলায় সমৃদ্ধ। এখানকার অনেক খেলোয়াড় ফুটবল ও ক্রিকেটসহ অন্যান্য ইভেন্টে জাতীয় পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। স্টেডিয়াম মাঠে প্রতিদিনই খেলাধুলা চলতো। করোনার থাবায় সবকিছু বদলে গেল। করোনার কারণে জেলা ক্রীড়া সংস্থার জেলাভিত্তিক সব ধরনের লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

শেয়ার