প্রশাসনের সাথে বাড়ির মালিকদের বৈঠক যশোরে মেসভাড়ার ২৫ শতাংশ মওকুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনা দুর্যোগের মধ্যে মেসভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থী-বাড়ির মালিকের দ্বন্দ্বের সুরাহায় যশোরে ভাড়ার ২৫ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবার সার্কিট হাউসে প্রশাসনের সাথে মেস মালিকদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত বেশির ভাগ মেস মালিক এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হন। বৈঠক থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত গত এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এছাড়া সভায় ৭৫ শতাংশ মেসভাড়া আদায়ের পাশাপাশি আরো দুইটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যার মধ্যে রয়েছে ভাড়ার বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের কারো আপত্তি থাকলে দ্বিপাক্ষিকভাবে অর্থাৎ মেস মালিক ও মেসের ভাড়াটিয়া বসে সমঝোতা করবেন। এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষকে ডাকা যাবে না। সেই সাথে ভাড়া দিতে না পারলেও কারোর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না।
তবে এর আগে মে মাসের শুরুর দিকে মেস ভাড়া মওকুফ নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তখন মেস ভাড়ার ৬০ শতাংশ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু গতকাল অনুষ্ঠিত সভায় মেস মালিকদের অনেকেই সেই সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।
তারা দাবি করেন, সেদিনকার সভায় তাদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি ওই দিনের সভায় উপস্থিতদের বেশির ভাগেরই বাড়িতে মেস নেই। তারা ‘ফ্যামিলি’ বাসা ভাড়া দিয়ে থাকেন। সেখানে শিক্ষার্থীদের কোন মেস নেই। তাই সেই দিনের সিদ্ধান্তের সাথে তারা একমত নন। মেস মালিকদের অভিযোগ, এর আগের বৈঠকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মানবিক কারণে মেসভাড়া ৬০ শতাংশ মওকুফের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেটি আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত ছিল না। আর বৈঠকের আলোচনার বিষয় নিয়ে চরম বিভ্রান্তি থেকে দ্বন্দ্বেরও সূচনা হয়েছে। মেসে থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের বন্ধুরা দলবল বেঁধে ভাড়ার ৬০ শতাংশ মওকুফের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, আগের বৈঠকে মানবিক বিবেচনায় মেসে বসবাস করা শিক্ষার্থীদের ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেটি কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। মেস মালিকদের মানবিক দিকটি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। এছাড়া বেশ কিছু মালিক তাদের মেসের শিক্ষার্থীদের ওপর পাল্টা চাপ ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন।
মেস মালিকদের অনেকে বলেন, মেস-মালিকদের অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি তৈরি করেছেন। তাদের নিয়মিত ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা ভাড়া না দিলে তারা বিপাকে পড়বেন। তবে বৈঠকের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান মেস মালিকদের করোনার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ঋণ পরিশোধের ছাড়ের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত কোনো গ্রহীতা ঋণ শোধ না করলেও খেলাপী ধরা হবে না। যদি জুনের মধ্যেই ঋণ শোধ করা হয় তিনি নিয়মিত ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। ঋণ পরিশোধের জন্য কারোর উপর ব্যাংকের চাপ থাকলে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের জন্য বলেন তিনি।
বেলা এগারটায় শুরু হওয়া ওই বৈঠক চলে পৌনে দুইটার দিকে শেষ হয়। এতে ৬০ থেকে ৭০ জন মেস মালিক অংশ নেন। তবে বৈঠকের লক্ষণীয় বিষয় হলো করোনার এই সংকটের সময় সংক্রমণ থেকে বাঁচার অন্যতম কৌশল নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব। কিন্তু এই সভাটির আয়োজন এমনভাবে করা হয় যেখানে নিরাপদ দূরত্ব রাখার কোন উপায়ই ছিল না। অনেক মানুষের সমাগমের মধ্যে একে অন্যের গা ঘেঁসে বসেই বৈঠকে অংশ নেন সবাই। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অপু সরোয়ার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী আতিকুর রহমান, সরকারি এম এম কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামিদুল হক শাহীন প্রমুখ।
এদিকে মেস মালিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন, ওয়াহিদুর রহমান ডেল্টা, ইউসুফ হোসেন, জোসেফ সুধীন মন্ডল, মনিরুল ইসলাম মিলন, নুরুল্লাহ শফিকুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, লাবু জোয়র্দার প্রমুখ।

শেয়ার