দুই মাস পর খুলেছে যশোরের হোটেল

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ দীর্ঘ দুই মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার খুলেছে যশোরের হোটেল- রেস্তোরাঁ। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকে বন্ধ রয়েছে যশোরের হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো। মাঝে এক দফায় নয়দিন বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হলেও দুই-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া রেস্তোরাঁগুলো বন্ধই ছিল। এরই মাঝে চলে যায় মুসলিমদের বৃহত্তম উৎসব ঈদুল ফিতর। রেস্তোরাঁগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের করুণদশায় কেটেছে এই উৎসব।
বুধবার ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় যশোর জেলার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দুপুরে এই তথ্য ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয় ফোনে।
এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বুধবার রাত ১১টার দিকে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) প্রীতম সাহা জানান, সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই এর আওতায় পড়বে। ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা ইচ্ছা করলে তাদের প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেন। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে, শারীরিক দূরত্ব রেখে ব্যবসা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৪ মের বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পরদিন ৫ মে একটি পরিপত্র জারি করে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খন্দকার নূরুল হক স্বাক্ষরিত পরিপত্রে ঈদ উপলক্ষে চারটি শর্ত পালন সাপেক্ষে দোকানপাট ও শপিং মল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। লকডাউন ঘোষিত যশোরেও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়। কিন্তু শর্ত না মানায় ১৭ মে অনুষ্ঠিত ‘করোনা নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত জেলা কমিটি’র সভায় ১৯ মে থেকে ফের যশোরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ১০ থেকে ১৮ মে যশোরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুললেও বন্ধ ছিল হোটেল-রেস্তোরাঁ। তবে অল্প কিছু রেস্তোরাঁ, যারা ‘ফুড পান্ডা’ বা এমন ধরনের সাপ্লাই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, প্রতিষ্ঠান খুলে খাদ্য সরবরাহ করতে থাকে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এনডিসি প্রীতম সাহা বলেন, ১০ থেকে ১৮ মে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সময়কালে রোজা চলছিল। যেহেতু সীমিত পরিসরে (বিকেল চারটা পর্যন্ত) প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়, সেই কারণে রেস্তোরাঁগুলো হয়তো খোলেনি। কারণ রমজান মাসে দিনের বেলা রেস্তোরাঁয় খুব একটা বেচাকেনা হয় না। সন্ধ্যার আগে ইফতার সামগ্রী বিক্রিই এই সময়ের মূল ব্যবসা।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এনডিসি জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসা চালানো জরুরি। এই বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত তৎপরতা চালাচ্ছেন। যেহেতু বৃহস্পতিবার সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলেছে, তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার হবে।

শেয়ার