ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সুন্দরবনে সোয়া দুই কোটি টাকার ক্ষতি

গাছ ভেঙে-উপড়ে পড়েছে ১২৩৫৮টি

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট ॥ সুন্দরবনে সুপার সাইক্লোন আম্পান’র ৮ ঘন্টার তান্ডবে বড় ধরণের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে ১২ হাজার ৩৫৮টি। যার পুরাটাই পশ্চিম বন বিভাগের আর এই গাছের ক্ষতি হয়েছে ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৬০ টাকার। অন্যদিকে পূর্ব বন বিভাগের তদন্ত রির্পোটের তথ্য অনুয়ায়ী অফিস, ব্যারক ও গাছের ক্ষতি ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা প্রায়। মারা যায়নি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও হরিণসহ কোন বন্যপ্রাণী। বন বিভাগের দুই বিভাগের ৪টি রেঞ্জের ১০টি জলযানসহ অবকাঠামোর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা। সবমিলিয়ে আম্পানের আঘাতে সুন্দরবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৬০ টাকা। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে গঠিত ৪টি তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন্ধ কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসনে ও খুলনার পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বশির আল মামুন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সুন্দরবন বিভাগের এ দুই শীর্ষ কর্মকর্তার কাছে চারজন রেঞ্জ কর্মকর্তার জমা দেয়া তদন্ত রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগে আম্পানের তান্ডবে ১২ হাজার ৩৩২টি গেওয়া, গরান গাছ ভেঙে-উপড়ে গেছে। এরমধ্যে গরান গাছের সংখ্যা ১০ হাজার ৫৭৯টি।
আর বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে গাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে মাত্র ২৬টি। এই ২৬টি গাছ হচ্ছে বন অফিস চত্বরে বনায়ন করা নারকেল, তাল, ঝাউ, বট ও রেইনটি গাছ।
সুন্দরবনে আম্পানের তান্ডবলীলায় ২৬টি জেটি ধ্বংস হয়ে গেছে। ৪৯টি ফরেস্ট অফিস ও ব্যারাকের চাল উড়ে এবং গাছ পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পূর্ব সুন্রবন বিভাগের কটকা, কচিখালী ও হারবাড়িয়ায় দুটি জেটি ও একটি ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে চুরমার হয়ে পড়েছে। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রর হরিণ ও ডলফিনের শেড ভেঙে লন্ডভন্ড হয়েগেছে।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ১০টি জলযানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পূর্ব বিভাগে ১৭টি ও পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ২৩টিসহ ৪০টি পুকুর জলোচ্ছাসে লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে করে সুন্দরবনে বাঘ-হরিণসহ বন্যেপ্রাণীদের খাবার পানির উৎসে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ২৪ মে রাতে সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের দুই ডিএফও পৃথক ৪টি তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েই দ্রুত উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তারা আশা করছে সরকারি বরাদ্দ দ্রুত মিলবে। আর ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা গুলো মেরামত করা হবে ।

শেয়ার