যশোরে ব্যবসায়ী আল-আমিন হত্যা মামলার ৯ আসামি ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে মাটি ব্যবসায়ী বড় আল-আমিন হত্যা মামলার নয় আসামি এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রায় দুই মাস আগে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন শহরের শহরের খড়কি পীরবাড়ি কাসারদীঘি এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে আলামিন হোসেন।
মামলা সূত্র মতে, গত ১ এপ্রিল বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের খড়কি পীর পাড়াস্থ কাসাদীঘি লুৎফর রহমানের চায়ের দোকানের সামনে থেকে শামিম নামে এক যুবকের মোটরসাইকেলে লাথি মেরে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে একদল সন্ত্রাসী বড় আলামিন নামে এক বালি ব্যবসায়ীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এসময় আলামিনের সহযোগী ছোট আলামিন ও সাহেব আলী নামে আরো দুইজন আহত হন। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই তিনজনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু আহত বড় আল আমিনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বড় আলামিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এই ঘটনায় বড় আল আমিনের পিতা আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে রাতেই ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাতেই এই মামলার নাছরিন সুলতানা তুলি, পিকুল হোসেন, মিন্টু ও মন্টু, মুকুল হোসেন ও বিপুল, শিমুল, ইমন হোসেন, টুটুল হোসেন, সিদ্দিক হোসেন ও সাবেদ আলীসহ ১০ আসামিকে আটক করে। এরপরই মামলা তদন্তে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেদ আলী নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। কিন্তু আটক ১১ জনকেই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকে থমকে আছে ওই মামলা তদন্তের কার্যক্রম। ফলে গত প্রায় দুই মাসেও এই মামলার জামাল, অনু, হিরা, বাপ্পা, অমিত, পিন্টু, পিয়াস, রনি ও জুয়েলসহ পলাতক আরো ৯ আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পলাতক আসামিরা মাঝে মধ্যে এলাকায় এসে মামলা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বাদী আলমগীর হোসেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কসবা ফাঁড়ি পুলিশের পরিদর্শক মিলন কুমার মন্ডল বলেছেন, পলাতক আসামিদের আটকের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার