শরণখোলায় ৩৫/১ পোল্ডারের ভেরিবাঁধ নিয়ে শঙ্কায় উপকূলবাসী

এমাদুল হক শামীম, শরণখোলা ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় নির্মাণাধীন ৩৫/১ পোল্ডারের ভেরিবাঁধ খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইতোমধ্যে বলেশ্বর নদীর হঠাৎ কয়েক দফা ভাঙ্গনের ফলে কয়েক বিঘা জমি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। অপরদিকে, নুতন করে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে উপকুলীয় এলাকার বসতিদের মধ্যে আতংঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে উপজেলার বলেশ্বর নদী সংলগ্ন গাবতলা ও বগী, বকুলতলা, চালিতাবুনিয়া সহ সাউথখালী ইউনিয়নটির শত শত বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি, ফসলী জমিসহ জান মালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গত ৮ ও ৯ মে আকস্মিক নদী ভাঙ্গনে ওই ইউনিয়নের গাবতলা ও বগী গ্রাম সংলগ্ন বাঁধের প্রায় ১৫ বিঘা জমি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বালু দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করায় ৩৫/১ পোল্ডারের ভেরিবাঁধটি অনেকটা দুর্বল হয়েছে। তাই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার বগী এলকার ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর উপকুলবাসীর দাবি ছিল টেকসই বেড়িবাঁধ। তবে, নির্মাণাধীন ভেরিবাঁধটি টেকসই হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৬ সালে ৩৫/১ পোল্ডারের ৬৭ কিঃমিঃ ভেরিবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন (সি.এইচ.ডাব্লিউ) নামের চায়নার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই বাঁধ নড়বড়ে হওয়ার কারণে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ফলে শরণখোলাসহ উপকুলের বাসিন্দাদের যান-মালসহ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংঙ্কা বেশি।
তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন জানান, ভাঙ্গনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ওই স্থানে একটি রিং বেড়িবাঁধ দেয়া হয়েছে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ওাহিদুজ্জামান খাঁন বলেন, ৩৫/১ পোল্ডারের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং কাজের গুনগত মান সঠিক আছে। তবে, সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ও গাবতলা এলাকার দুই কিলোমিটার অংশে নদী শাসন নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি কাজটি দ্রুত শেষ করার।

শেয়ার