লকডাউন বাস্তবায়নে কড়াকড়ি, সড়কে ঘোরাঘুরি করলে ব্যবস্থা
যশোরে ফুটপাতের দোকানও বন্ধ করলো প্রশাসন

জাহিদ হাসান
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যশোরের মার্কেটগুলো খোলার পর শহরেজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। বাজারে ছিল ঈদের কেনাকাটার ধুম। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মানায় মঙ্গলবার থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। আর বুধবার সকালে ফুটপাত থেকেও সব ধরনের ব্যবসায়ীদের উঠিয়ে দেয়া হয়। কড়াকড়ি করা হচ্ছে রিকশা-অটোরিকশা চলাচলেও। এতে স্বস্তি ফিরেছে সচেতন নাগরিক মহলে। তারা বলছেন, গত কয়েকদিন মার্কেট-দোকানপাট খোলার কারণে শহরে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের এমন ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তারা।
জেলা প্রশাসন সূত্র মতে, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মানায় মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। ১৭ মে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে টানা ৪৪ দিন পর গত ১০ মে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহে মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে জেলা প্রশাসনের স্বাক্ষরিত এক গণ-বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, কঠোর লকডাউন নিশ্চিত করতে যশোর জেলার প্রবেশদ্বারে তল্লাশি বসানো হয়েছে। যারা এ জেলায় প্রবেশ করবেন এবং বের হবেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয়, সে জন্য বাধ্য করা হবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত লকডাউন কার্যকর থাকবে। জরুরি সেবা যেমন অ্যা¤¦ুলেন্স, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, সংবাদপত্র, কাঁচাবাজার, নিত্যপণ্যের দোকান, কৃষি সংক্রান্ত বিষয়াদি লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।
সংশিষ্টসূত্র মতে, মঙ্গলবার জেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও অকারণে সড়কে ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে সকাল থেকেই মাঠে নামেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও মাঠে নামেন। শহরের বিভিন্ন সড়কে হকারদের দোকানপাট বন্ধ করে দেন। ফুটপাত বিভিন্ন হকাররা পরসা সাজিয়ে বেচাকেনা শুরু করলে তাদেরও তুলে দেয়া হয়। জেলা পুলিশের উদ্যোগে দড়াটানায় অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করা হয়। যাদের মুখে মাস্ক বা স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছিলো না। এসময় তাদের সাবধান করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিতরণ করেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) গোলাম রব্বানি। এদিকে শহরের আর এন রোডে রূপসা সাইকেল স্টোর নামে একটি দোকান সরকারি নির্দেশ অমান্য করে খোলার অপরাধে দোকান মালিককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেন। এরপরে সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারেও অভিযান চালানো হয়। বাজারের এ সময় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রিন্স টেইলার্স এবং লোকনাথ বস্ত্রালয় নামে দুটি দোকান খোলা ছিলো। এ অপরাধে প্রিন্স টেইলার্সকে ৪ হাজার টাকা এবং লোকনাথ বস্ত্রালয়কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া কয়েকটি দোকানিকে সাবধান করা হয়েছে।
এই বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা না মানলে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। তিনি আরো বলেন, জনসাধারণকে সচেতন হতে হবে। সচেতনায় করোনাকে জয় করা সম্ভব। তাদের এই অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, জনসমাগম ঠেকানো যাচ্ছিল না বলেই জনস্বার্থে দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে অভিযান শুরু হয়েছে। একইভাবে মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ করা হচ্ছে। তবে কৃষিপণ্য, স্বল্পপরিসরে কাঁচাবাজার, ওষুধ, জরুরি সেবা, সংবাদপত্র এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা হতে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ নির্দেশনা মাইকিং করে সকলকে অবগত করা হচ্ছে। কেউ অযথা ঘরের বাহিরে বের হয়ে আইন অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।

শেয়ার