বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে খুলনার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন

এস এম সাঈদুর রহমান সোহেল, খুলনা ॥ খুলনার আকাশ সোমবার (১৮ মে) রাত থেকে মেঘাচ্ছন্ন। মঙ্গলবার সকালে কিছুক্ষণ রোদের দেখা মিললেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ম্লান হয়ে যায়। সঙ্গে দমকা হাওয়া বইতে থাকে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকুলবর্তী যে কয়টি জেলায় আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তার মধ্যে খুলনা জেলা অন্যতম। ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার বিকেলে নাগাদ আঘাত হানতে পারে।
এদিকে, খুলনার ৯টি উপজেলায় ৬০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জরুরী চিকিৎসা সেবায় ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
খুলনা জেলা সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার আবহাওয়ার বুলেটিন অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭০৩ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। খুলনার আকাশে মেঘলা রয়েছে। মাঝে মধ্যে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে হালকা দমকা বাতাস বইছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে উপকূলবাসীকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং শুরু হয়। কিন্তু আবহাওয়া এখনো অতটা বিরূপ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। বাড়িঘর ও গরু, ছাগল ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে তাদের মধ্যে আগ্রহ কম। তবে বুঝিয়ে তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন স্থানীয় প্রশাসন।
সুন্দরবন উপকূল সংলগ্ন কয়রা উপজেলা সদরের ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির জানান, মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো পরিবেশ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকায় কেউ যেতে শুরু করেনি। তবে, দুপুরের পর থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া শুরু হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।
ঝড়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনার ৬০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ জনকে আনা হবে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনার ৯টি উপজেলায় ৩৬১টি থেকে বাড়িয়ে ৬০৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের ১০৮টি, কয়রার ১১৬টি, পাইকগাছার ৪৫টি ও বটিয়াঘাটার ২৩টিসহ ২৯২টি আশ্রয়কেন্দ্রকে আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিরসহ ২ হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আরো ১ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনে উপকূলবাসীকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা কাজ করছেন।
খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬০৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে করোনার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার