তামিমকে নিজের প্রস্তুতির গল্প শোনালেন কোহলি

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রতিভা তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রক্রিয়া। অনন্যসাধারণ ‘মেথড।’ দুটির সমন্বয়েই আজ ব্যাট হাতে ২২ গজে রাজত্ব করে চলেছেন বিরাট কোহলি। তার সেই ‘মেথড’, অনুশীলনের প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহ ও আলোচনা তুমুল। ভারতীয় অধিনায়ক এবার নিজেই তার প্রস্তুতি পর্বের কথা শোনালেন তামিম ইকবালকে।

কোহলির অনুশীলনের ধরন নিয়ে কৌতূহল ক্রিকেট বিশ্বজুড়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও আছেন সেই আগ্রহীদের তালিকায়। ফেইসবুক লাইভে সোমবার রাতে কোহলির সঙ্গে আড্ডা দিয়েছেন তামিম। সেখানেই কোহলির কাছে তামিম জানতে চাইলেন প্রস্তুতি নিয়ে। বললেন, বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটাররাও জানতে চান এটি। ভারতীয় অধিনায়ক মেটালেন কৌতূহল।

“ এটা নির্ভর করে (পরিস্থিতির ওপর)ৃ আমার কোনো স্থায়ী ধরন নেই প্রস্তুতির। কেবল ফিটনেসের ধরন ও খাদ্যাভ্যাস আমার একইরকম থাকে। এই দুটি ব্যাপারে ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। কারণ, শরীর যদি ভালো অবস্থায় থাকে, মানসিকতা যদি ভালো থাকে, শরীরে জড়তা না থাকে, তাহলে প্রতিবারই মাঠে সেরা অবস্থায় নামা যায়।”

“ ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমার ক্ষেত্রে যেটা হয়, যখন আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকে, তখন আরও বেশি ব্যাটিং করতে ইচ্ছে করে। যতক্ষণ না নিখুঁত ব্যাটিং সেশন হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাটিং করে যেতেই ইচ্ছে হয়। ওইটুকু হয়ে যাওয়ার পর নেটে ৭-৮ মিনিটের বেশি কাটাই না। সাইডআর্ম থ্রোয়ারে মিনিট দশেক থ্রো ডাউনে ব্যাটিং করি। এরপর চলে যাই।”

কোহলির মতে, ভালোর বাড়াবাড়িও অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই নিজের সীমা বোঝা জরুরি।

“ভালো ব্যাটিং করতে থাকলে তা বেশি করলেও সমস্যা। কারণ তখন আত্মবিশ্বাস বেশি হয়ে যায়, সব শটই ব্যাটে লাগতে থাকে, মনে হয় যে সব শটই খেলতে পারব। তখন উল্টো হতে থাকে। বডি শেইপ খারাপ হয়, কিছু শট লাগে না, হতাশা আসতে থাকে, এতক্ষণ ধরে যেভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছিলাম, সব এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়। ব্যাটসম্যানদের তাই সেই সচেতনতা থাকা জরুরি।”

প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অবশ্য একেকজনের ধরন একেকরকম। তামিম যেমন উদাহরণ দিলেন বাংলাদেশ দলের মুশফিকুর রহিমকে দিয়ে, যিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাটিং করেন অনুশীলনে। কোহলিও বললেন তার দলের একজনের কথা।

“ হ্যাঁ, ব্যাপারটা যার যার ব্যক্তিগত। আমাদের চেতেশ্বর পুজারা যেমন ৩ ঘণ্টা ধরে ব্যাট করে যায়। সবার ব্যাটিং একাই করে নেয়! এটা তার আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ধরন। আমার ব্যাপার আলাদা।”

“ পাশাপাশি আমার মনে হয়, মানসিক প্রস্তুতির জন্য মাঠের বাইরের ব্যাপারও খুব গুরুত্বপূর্ণ । সফরে গেলে একটু হাঁটতে যাওয়া, ঘুরে-বেড়ানো এসব দরকার। সবসময়ই একই ঘোরে থাকা যাবে না। মানসিক প্রস্তুতি ভালো থাকলে ম্যাচেও ভালো অবস্থায় যাওয়া যায়।”

শেয়ার