অপহৃত ছেলেকে ৩২ বছর পর ফিরে পেলেন চীনা দম্পতি

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ৩২ বছর কম সময় নয়, এতগুলো বছরে বার্ধক্য ছুঁয়েছে দম্পতিকে। তবু ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি। চীনা এই দম্পতির হার না মানা জেদ শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দিয়েছে সন্তানকে।

সময়ের হিসাবে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে খোঁজাখুঁজির পর এখন আনন্দে আত্মহারা তারা। মাঝের এতগুলো বছর পর জীবনে যেন নতুন করে বাঁচার অর্থ খুঁজে পেয়েছেন।

লি জিংঝি এবং মাও ঝেনজিং দম্পতির ছেলে মাও ইন এর বয়স তখন দুই বছর। একদিন বাবার সঙ্গে নার্সারি থেকে বাড়ি ফেরার পথে অপহরণ হয়ে গিয়েছিলেন মাও ইন। সালটা ১৯৮৮।

ছেলে পানি চাওয়ায় বাবা ঝেনজিং একটি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে পানির ব্যবস্থা করার সময়ই ঘটে ওই ঘটনা। চারপাশে খুঁজেও ছেলেকে আর পাননি ঝেনজিং। মাও ইনকে অপহরণ করে ৬ হাজার ইউয়ানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল সিচুয়ান প্রদেশের এক সন্তানহীন দম্পতির কাছে।

এরপরই হন্যে হয়ে ছেলের খোঁজে নেমে পড়েন বাবা-মা। মা লি জিংঝি ছেলের খোঁজ করতে গিয়ে চাকরিই ছেড়ে দেন। ছেলের খোঁজ পেতে কত কী-ই না করেছেন তিনি!

১০ টিরও বেশি প্রদেশে, পৌর করপোরেশনে লাখো প্রচারপত্র বিলি করেছেন। বছরের পর বছর সাহায্য চেয়ে চীনের একাধিক টিভি শো তে উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু কোনো চেষ্টাই ফল দেয়নি।

২০০৭ সালে লি স্বেচ্ছায় ‘বেবি কাম ব্যাক হোম’ নামে একটি দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে সন্তান হারানো বাবা-মায়েদের জন্য কাজ করতে শুরু করেন।

সে কাজে তিনি ২৯ জন হারিয়ে যাওয়া শিশুকে নিজ নিজ পরিবারে ফিরিয়ে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু তখনও ফিরে পাননি নিজের সন্তানকে। তারপরও হাল না ছেড়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন লি।

এরপরই গত এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক খবরে জানায়, পুলিশ সিচুয়ান প্রদেশে একজনের খোঁজ পেয়েছে। যাকে ১৯৮০’র দশকের শেষদিকে দত্তক নিয়েছিলেন এক দম্পতি। তার বয়স এখন ৩৪।

পুলিশ এরপর তার ডিএনএ পরীক্ষা করে মাও ঝেনজিং এবং লি জিংঝির সঙ্গে এর মিল পায়। এভাবেই মাও এবং লি খুঁজে পান তাদের ছেলে মাও ইন কে।

মাও ইনের নাম ততদিনে বদল হয়ে হয়ে গিয়েছিল গু নিঙিং। তিনি হোম ডেকোরেশনের ব্যবসা চালাচ্ছেন। সাংসি প্রদেশের সিয়াং শহরে সোমবার পুলিশ একটি সংবাদ সম্মেলনে মাও ইনকে শেষ পর্যন্ত তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।

ছেলের খোঁজ পাওয়ার শুভ সংবাদটি লি কে দেওয়া হয়েছিল ১০ মে’র মা দিবসে। সেদিন এটিই ছিল লি’র জন্য সবচেয়ে বড় উপহার। ছেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর শক্ত করে তার হাত ধরে লি বলেন, আর কখনো তাকে হাতছাড়া হতে দিতে চান না তিনি।

১৯৮৮ সালে মাও ইন অপহরণ হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। আর তাকে যারা দত্তক নিয়েছিলেন তাদের ব্যাপারেও কোনো তথ্য জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার