যশোর টাউন হল মাঠে বসছে না মাছ বিক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর টাউন হল মাঠে নানা অসুবিধার কথা উল্লেখ করে গতকাল থেকে বসেনি মাছ বিক্রেতারা। বড়বাজার ফাঁকা মাঠে স্থানান্তর করতে টাউন হল মাঠে মাছ বাজার সরিয়ে নেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা অসুবিধার কথা বলে ১৩ দিনের মাথায় গতকাল থেকে তারা মাছ নিয়ে বসছে না। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে এমন পরিস্থিতি কেন হলো, তা নিয়ে ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ী- ক্রেতারাও তাদের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।
যশোর বড়বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শ্রীকৃষ্ণপদ বিশ্বাস বললেন, তাদের পক্ষে টাউন হল ময়দানে বসে মাছ বিক্রি করা আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। বাধ্য হয়ে তারা উঠে এসেছেন। তবে এটা তাদের কোনো আন্দোলন না।
তিনি বলেন, ‘টাউন হল ময়দান বেশ বড় জায়গা। সেখানে ফাঁকা ফাঁকা অবস্থান করা যায়। কিন্তু অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বলতে কিছুই নেই। এমনকি পানি খাওয়ার জন্য একটা কলও নেই। রোদে পুড়ে ব্যবসায়ীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাও তো এখন নেই। আমরা কীভাবে ওখানে বসে ব্যবসা করব?’ তিনি বলেন, ‘ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি আমরা বুঝি। তাই প্রশাসন যখন যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, তা মেনে নিয়েছি। কিন্তু ব্যবসা তো করি দুটো পয়সা রোজগার করার জন্য। টাউন হল মাঠে মেলা দেখার মতো প্রথম প্রথম কিছু লোক এসেছিল। এখন আর খরিদ্দার নেই। কড়া রোদে খরিদ্দাররা বাজার করবে কীভাবে? আমরাই বা কতদিন লোকসান দিয়ে চলতে পারব? তাই একে একে মাছ ব্যবসায়ীরা বাড়িতে ফিরে গেছে। আজ কোনো বেচাকেনা হয়নি।’
বড়বাজার মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সংখ্যা ১২০। সমিতির বাইরেও কিছু ব্যবসায়ী আছেন। তারা সবাই প্রশাসনের নির্দেশনামতো টাউন হল মাঠে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনকে ওই মাঠে দেখা যায়। মাছ বলতেও তেমন কিছুই ছিল না। কাউকে কাউকে ফেরি করে পাড়া-মহল্লায় মাছ বিক্রি করতেও দেখেছেন অনেকে।
টাউন হল মাঠে মাছের বাজার বসানোর দুইদিনের মাথায় ব্যবসায়ীরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন। বলেছিলেন, সব আড়ত বড়বাজারে। সেখান থেকে মাছ কিনে আনতে হয়। বরফকলও বড়বাজার লাগোয়া। ফলে ব্যবসায়ীদের বাড়তি খরচ হচ্ছে। অবিক্রিত মাছ পরের দিন বিক্রির জন্য রেখে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে বড়বাজারে। টাউন হল মাঠে তা নেই। ইতিমধ্যে এক ব্যবসায়ীর মাছ চুরিও হয়েছে।
বড়বাজারের ইজারাদার মীর মোশাররফ হোসেন বাবু বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের আসলে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমি বসে কথা বলেছি। কিন্তু কোনোভাবেই তারা টাউন হল মাঠে আর বসতে চাইছে না। কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সবজি ব্যবসায়ীদের মনোভাবও ক্রমে নেতিবাচক হচ্ছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পৌরসভার মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।’
টাউন হল মাঠে বসা মাছ বিক্রেতা আজগর বিশ্বাস, মতিয়ার বিশ্বাস, আবুল বিশ্বাসসহ অনেকেই বলেন, লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে। এখানে আর দোকানদারি করার ইচ্ছা নেই তাদের। ক্রেতারা বলছেন, এখানে বাজার আসায় শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করা যাচ্ছে। কিন্তু সব কিছুর দাম বেশি। আবার রোদে দাঁড়ানো যায় না। মানুষ কীভাবে কেনাকাটা করবে?
যশোর জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শারীরিক দূরত্ব রেখে কেনাকাটায় যাতে সূবিধা হয়, সেই কারণে বড়বাজার ফাঁকা জায়গায় আনা হয়। এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের যদি অসুবিধা হয়, তাহলে জনগণের কথা চিন্তা করেই বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে মেয়র সাহেবের সঙ্গেও কথা বলব।’
যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, করোনা প্রতিরোধে ভূমিকার অংশ হিসেবে সবজি ও মাছবাজার সরানো হয়েছিল। বাজারের বর্তমান অবস্থাও আমলে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মিটিং করা হবে।

শেয়ার