করোনায় মৃতের সংখ্যা আড়াইশ’

 ঈদ পর্যন্ত ছুটি বৃদ্ধির ইঙ্গিত জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর

সমাজের কথা ডেস্ক॥ করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশে প্রথম মৃত্যুর পর দুই মাস পার হওয়ার আগেই মৃতের সংখ্যা আড়াইশতে পৌঁছাল। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৭৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৬৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ জন।
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছুটি সংক্রান্ত সবকিছুই আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই আমরা তা চূড়ান্ত করবো। বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা মঙ্গলবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশে প্রথম মৃত্যুর পর দুই মাস পার হওয়ার আগেই মৃতের সংখ্যা আড়াইশতে পৌঁছাল। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৭৭৩ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৬৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৬৬০ জন।
আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১১ জন গত এক দিনে মারা গেছেন। ফলে কোভিড-১৯ এ দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০ জন হয়েছে।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আরও ২৪৫ জন গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে মোট ৩ হাজার ১৪৭ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ; তার দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু।
অধ্যাপক নাসিমা জানান, গত এক দিনে যে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন ৮০ বছরের বেশি বয়সী। দুইজনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে; ৫ জন ছিলেন ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে; তিনজন ছিলেন ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়স শ্রেণির মধ্যে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮টি ল্যাবে মোট ৬ হাজার ৭৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব।
গত এক দিনে আরও ২৪৫ জনকে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার ৩৬১ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।
এদিকে, করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ছুটি না বাড়িয়ে উপায় নেই বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ ছুটি সংক্রান্ত সবকিছুই আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেলেই আমরা তা চূড়ান্ত করবো। বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কারণ, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও কিছু নির্দেশনা দিতে পারেন।’ মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট ও শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সাধারণ মানুষ এই অনুমতির কোনও শর্তই মানছেন না। অনেকেই সন্তানদের নিয়ে কেনাকাটা করার জন্য মার্কেটে যাচ্ছেন। এতে কারোনা মহামারি আকার ধারণ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় খুলে দেওয়া মার্কেট, শপিং মল আবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘১৭ মে থেকে ঈদের আগে কর্মদিবস রয়েছে মাত্র চারটি। বাকি দিনগুলোয় রয়েছে শবেকদর ও সাপ্তাহিক ছুটি। আমার ধারণা মানুষ যখন এতদিন সাধারণ ছুটির বিড়ম্বনা সহ্য করেছেন, ঈদের আগে বাকি এই কয়টা দিনের বিড়ম্বনাও হয়তো সইবেন। তাই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মতোই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।’
এর আগে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে ৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ১৪ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল, ৫ মে এবং সর্বশেষ ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।

শেয়ার