অভয়নগরে ছয় বছর আগের হত্যার বদলায় খুন হলো সাবেক চরমপন্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের অভয়নগরে সাবেক এক চরমপন্থী সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। নিহত চরমপন্থী সদস্য শেখ আতিয়ার রহমান আতাই (৫৭) অভয়নগর উপজেলার মোয়াল্লেমতলা গ্রামের শেখ ইসমাইলের ছেলে ও স্থানীয় জেজেআই মিলের বদলি শ্রমিক। সোমবার সন্ধ্যারাতে হামলার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। ‘খুনের বদলা’ হিসেবে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অভয়নগর থানার ওসি তাজুল ইসলাম জানান, কয়েকবছর আগে নিহত চরমপন্থী নিশানের খালাতো ভাই লিমন ও তার দুই সহযোগী সোমবার সন্ধ্যারাতে নিজ বাড়ির সামনে আতাইকে কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মধ্যরাতে তার মৃত্যু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৪ সালের আগে অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট ও খুলনার ফুলতলা উপজেলার উত্তর ডিহি, পায়গ্রাম কসবা ও ফুলতলা বাজার এলাকায় শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাই ও তার শ্যালক গিয়াস উদ্দীন চরমপন্থি দলের সদস্য হিসাবে সক্রিয় ছিল।
ওই সময় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে গিয়াস ও আতাইয়ের দলের সদস্যদের হাতে প্রতিপক্ষ চরমপন্থী সদস্য নিশান খুন হন।
নিশান হত্যা মামলায় তার পরিবারের কেউ বাদী না হওয়ায় অভয়নগর থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এই মামলায় গিয়াস উদ্দীন, ভিকটিম শেখ আতিয়ার রহমান ওরফে আতাইসহ আরও কয়েকজন আসামি ছিল। ওই মামলার পর গিয়াস উদ্দীন ও ভিকটিম শেখ আতিয়ার রহমান আতাই ভারতে পালিয়ে যায়। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে নিশান হত্যা মামলা আদালত থেকে খারিজ হয়ে যায়।
এরপর বছর খানেক আগে আতাই দেশে ফিরে আসেন। তিনি বাড়িতে এসে স্থানীয় জেজেআই জুট মিলে বদলি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবনযাপন করছিলেন। এরই মধ্যে সোমবার সন্ধ্যারাতে সেই চরমপন্থী সদস্য নিশানের খালাতো ভাই লিমন ও তার সহযোগী কাজী তারেক ও মুন্নার হামলার শিকার হন। স্থানীয়দের ধারণা, নিশান হত্যার বদলা হিসেবে প্রাণ দিলেন আতাই।

শেয়ার