দোকান খোলার প্রথম দিন যশোরের বাজারে মানুষের ঢল

সালমান হাসান রাজিব ও জাহিদ হাসান
স্বাস্থ্য সুরক্ষার বেশ কিছু শর্ত মেনে চলার শর্তে যশোরের প্রশাসন সীমিত পরিসরে পোশাকের দোকান চালুর অনুমতি দিয়েছে। তবে শহরের কোথায় ঈদ বাজারের কেনাকাটায় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরোপিত শর্ত মানা হয়নি। শর্তানুযায়ী বেশির ভাগ দোকানের প্রবেশ মুখে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা ছিল না। বাধ্যতামূলক গ্লাভস পরার শর্ত থাকলেও ক্রেতা-বিক্রেতারা মানেন নি। এমনকি দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি তিন থেকে চারজনে সীমিত রাখার নির্দেশনাও উপেক্ষিত ছিল। ভিড় জমিয়েই কেনাবেচা চালানো হয়। সামাজিক দূরত্বও মেনে চলেনি কেউ। এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে লিবার্টি সু ও মডার্ন ক্লথ স্টোর থেকে জরিমানা আদায় করেছেন।
গতকাল রোববার ছিল সীমিত পরিসরে দোকানপাট চালুর প্রথম দিন। আর এই প্রথম দিনেই রীতিমতন ভিড় জমে যায়। করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে দীর্ঘ ৪৪ দিন বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিধি মেনে যশোরের মার্কেট ও দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।
জানা যায়, শর্ত সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত দোকান-পাট খোলার এই অনুমতি দেয় প্রশাসন। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্দেশনা ও শর্ত বেধে দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে অন্যতম ছিল কেনাবেচার সময় পরস্পর থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেই মানতে হবে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও। এসব স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে হলো মার্কেটের প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজার রাখা। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের বাধ্যতামূলক মাস্ক ও গ্লাভস পরা। সেই সাথে কেনাকাটার জন্য দোকানে ৩-৪ জনের বেশি উপস্থিতি না থাকা। অন্য উপজেলা থেকে কেউ শহরে এসে কেনাকাটা করতে পারবে না। ব্যবসায়ীরা এসব বিধিনিষেধ মেনেই ব্যবসা পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র ছিলো সম্পূর্ণ উল্টো।
যশোরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, রোববার সকাল ১০ থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। এদিন সকাল থেকেই যশোর শহরের এইচএমএম রোড, এমকে রোড, কালেক্টরেট মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট ও এর সংলগ্ন সড়কে মানুষের ঢল নামে। অনেকদিন পর দোকানপাট খোলায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় জমে। সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায় ছিট কাপড়ের দোকানে।
যশোরের মার্কেটপাড়াগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শর্তানুয়ায়ী অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোন রকমের স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। কোথাও ছিল না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্বের কোনটিই।
কালেক্টরেট মার্কেট এলাকায় রাকিবুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা জানান, ভেবেছিলেন মার্কেট খোলার প্রথমদিন ভিড় কম হবে। এজন্য পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলেন। কিন্তু এসে দেখেন লোকের উপচেপড়া ভিড়।
এইচ এম ক্লাথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী রাফিউল আলম বাবু জানান, জেলা প্রশাসনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে দোকান খোলা হয়েছে। মার্কেটের ভিতরে ঢোকার আগে তাপমাত্রা মাপা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার পর দোকানে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। তবে অনেকেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্ব মানছে না। বাধা দিলেও জোর করে দোকানে ঢুকছে। তবে ক্রেতারা সচেতন হয়ে উঠবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমএম রোডের ছিট সম্ভারের স্বত্বাধিকারী শাহজাহান কবির শিপলু বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা হয়েছিলো। প্রথম দিনেই ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দোকানীরা স্বাস্থ্যসুরক্ষা মানলেও ক্রেতাদের অনেকে সেটি মানছেন না।
জানা গেছে, দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছেই। এমন অবস্থায় দোকাপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। এমনকি এই সিদ্ধান্ত মানুষজনকে সংক্রমিত হওয়ার জন্য জন্য এরকম উস্কে দেওয়ার মতন-বলছেন তারা।
তারা বলেছেন, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে করোনা হানা দেয়ার পর এটি একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। আর তাই এমন পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে দোকান খুলে দেওয়াটা মোটেও ভালো হয়নি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু করোনার সামাজিক সংক্রমণের মুখে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী বলে দাবি করেন। ‘শহরে বের হয়ে দেখলাম মানুষের ঢল। একজন আরেকজনের ঘাড়ের ওপর উঠে যাচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সরকার জনগণকে বিপদে ফেলে দিচ্ছে। আর তার কারণ জনগণ সচেতন নয়; তারা আত্মহুতি দিতে প্রস্তুত। এর ফল জনগণ ও সরকারকেই নিতে হবে’-আরো বলেন তিনি।
দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে দোকান চালু রেখে বেচাকেনা করতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য পুলিশ সদস্যরা মাঠে সার্বক্ষনিক নজরদারি রেখে চলেছেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার