নড়াইলে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০, ১৮টি বাড়ি ভাংচুর

নড়াইল প্রতিনিধি ॥ নড়াইলের কালিয়া উপজেলার জোকা গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। আহতদের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১৮টি বাড়িতে ভাংচুর করা হ?। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ও বুধবার (২৯এপ্রিল) সকালে উপজেলার জোকা গ্রামে দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, কালিয়া উপজেলার জোকা গ্রামে জমি কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই শেখ ও কায়েম শরীফের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাদের দুগ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ চলে আসছিল। এসব ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কায়েম শরীফের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ হাই শেখের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় শেখ, রহমত শেখ, আকাশ শেখ, মতিয়ার শেখ, কালাম শেখ, মিটু কাজী ও লিটু কাজীর বাড়িসহ কমপক্ষে ১৫টি বাড়ির ক্ষতিসাধন করা হয়। হামলাকারীরা আকাশ শেখ (২৪), মিটু কাজী (৪৫) ও তারিন বেগমসহ (২৫) ৫জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এ হামলার ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল ৯ টার দিকে বিবাদমান দু’টি গ্রুপ আবার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।সংঘর্ষ চলাকালে একই গ্রামের আলি শেখ (৪৩), কুদ্দুস শরীফ (৫৪),বুলবুল শেখ (৩৫) ও কালিয়া থানার কনেষ্টবল (গাড়ীর চালক) আতিকুর রহমান (৩২) আহত হন। দুদিনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০জন আহত হন।কনেষ্টবল আতিকুর সংঘর্ষ ঠেকাতে গেলে তার বামহাতে সড়কি দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। পরে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তার (পুলিশ কনস্টেবল) অস্ত্রপোচার হয়।
আহতদের কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবারের সংঘর্ষ চলা কালে রবিউল শেখ,বাচ্চু শেখ ও দুলাল শেখের বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, এএসপি (কালিয়া-সার্কল) রিপন চন্দ্র সরকার, কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কালিয়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চালছে।

শেয়ার