নিরাপদ দূরত্বে সাড়ে ৩শ’ দোকান
আজ থেকে ঈদগাহে সবজি ও টাউন হল মাঠে মাছ-মাংশের বাজার

সালমান হাসান রাজিব
একেকটি দোকানের দূরত্ব হবে অন্যটির থেকে ১৫ ফুট। যাতে মানুষের ভিড় না জমে। সেই সাথে কেনাকাটার সময়টাও যেন নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব রক্ষা হয়। করোনারা সামাজিক সংক্রমণ থেকে বাঁচার অন্যতম কৌশল হলো খুব কাছাকাছি না আসা। একে অন্যের থেকে অন্তত তিন ফুট দূরে থাকা। তাই যশোরে করোনার সংক্রমণ যখন চূড়ায় উঠছে ঠিক তখনই তড়িঘড়ি করে বড় বাজার সরিয়ে নেওয়া হলো। সেই সাথে স্যোশাল ডিসটেন্স বা সামাজিক দূরত্ব রাখার মতো করে বাজারটির দোকান পাতানো হলো।
শহরের মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানে ( টাউন হল মাঠ) আজ থেকে মাছ বাজার বসছে। মাছের পাশাপাশি এখানে মাংশের দোকানও বসবে। এছাড়া মাঠটির অদূরে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে বসবে তরকারির বাজার। করোনার সামাজিক সংক্রমণ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোয় বড় বাজার শহরের এই দুইটি পৃথক স্থানে সরিয়ে আনা হলো। গত মঙ্গলবার বাজারে স্থানান্তরের এমন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাঠ দুটিতে ১৫ ফুট অন্তর দূরত্ব রেখে দোকান পাতানো হয়েছে। যাতে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব ঠিক রেখে ক্রেতারা বাজার করতে পারেন। মাঠ দুটির প্রতিটিতেই এমন দৃশ্য নজরে পড়ে। বুধবার দোকানিরা দূরত্ব ঠিক রেখে বাজার বসানোয় ব্যস্ত ছিলেন। সেখানে বসে তারা আজ থেকে মাছ, মাংশ ও তরকারি বিক্রি করবেন।
জানা যায়, শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মাঠ দুইটিতে সাড়ে তিনশ’ দোকানদার সারিবদ্ধভাবে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে বসে উন্মুক্ত বেচাকেনা করবেন। এই উদ্দেশ্যে গতকাল দোকানদারদের প্রশাসন থেকে পরিচয়পত্রও দেয়া হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর ২ টার পর পর্যন্ত বাজার খোলা থাকবে। আর এর তদারকির জন্য পুলিশ প্রশাসন কাজ করবে। যাতে স্থানান্তরিত এই বাজারে ক্রেতারা সামাজিক দূরত্ব বাজায় রেখে কেনাকাটা করেন। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল বড়বাজারের তরকারির দোকানের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়। একেকটি দোকান অন্যটির থেকে বেশ অনেকটা দূরত্ব রেখে বসানো হয়। সেই সাথে মাছের বাজার সরিয়ে নিয়ে লোন অফিস পাড়ায় ও খালধার রোডে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও ভিড় বেশি হচ্ছিল। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছিল না। এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে বড় বাজার খোলা মাঠে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।