চৌগাছায় হাসপাতালের আরেক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত
মারাত্মক সামাজিক সংক্রামণ শুরু হলেও ঘরে থাকছে না অনেকে, গার্মেন্টস-দোকান খোলা

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরেকজন মেডিকেল অফিসার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এর আগে সনাক্ত হওয়া জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনিয়ে চৌগাছায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ তে।
হাসপাতাল সূত্র জানায় ২২ এপ্রিল চৌগাছায় প্রথম করোনা সনাক্ত হন এক কিশোর স্কুল ছাত্র (১৩)। এরপর ২৬ এপ্রিল ওই কিশোরকে চিকিৎসা দেয়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎক করোনা সনাক্ত হন। পরে ২৭ এপ্রিল ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক ও স্টাফদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার যবিপ্রবিতে পরীক্ষায় তাদের মধ্যে হাসপাতালের ওই চিকিৎসকের করোনা ভাইরাস পজেটিভ এসেছে।
এরআগে ২২ এপ্রিল চৌগাছার প্রথম রোগী হিসেবে এক নারী ও এক কিশোর সনাক্ত হন। এরপর ২৫ এপ্রিল সনাক্ত হয় এক গর্ভবতী নারী। ২৬ এপ্রিল সনাক্ত হন প্রথম দিন সনাক্ত নারীর স্বামী এবং প্রথমদিন সনাক্ত কিশোর স্কুলছাত্রকে চিকিৎসা দেয়া চৌগাছা উপজেলা হাসপাতালে জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার। ২৭ এপ্রিল সনাক্ত হয় ওই কিশোর স্কুলছাত্রের নানা ও নানী। বুধবার সনাক্ত হলেন আগের সনাক্ত হওয়া চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা মেডিকেল অফিসার। এছাড়া ২২ এপ্রিল উপজেলার বানুড়হুদা গ্রামের গর্ভবতী ২৮ বছর বয়সী ওই নারী হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। ২৩ এপ্রিল তার নমুনা পাঠানো হয়। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পরপরই ওই নারী হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। ২৫ এপ্রিল ওই নারীর করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। ২৬ এপ্রিল হাসপাতালে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা স্টাফদের নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানে পরীক্ষায় মঙ্গলবার ওই গর্ভবতী নারীর সংস্পর্শে আসা হাসপাতালের তিন নার্স করোনা সনাক্ত হন। একইদিন চৌগাছার ডিভাইন গার্মেন্টেসের এক নারী কর্মী করোনা সনাক্ত হন। এনিয়ে চৌগাছায় সর্বমোট করোনা আক্রান্ত রোগী দাঁড়ালো ১২ জনে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার বলেন, নতুন করে হাসপাতালের একজন মেডিকেল অফিসার করোনা সনাক্ত হয়েছেন। তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ওই চিকিৎসক এর আগে সনাক্ত হওয়া চিকিৎসকের সংস্পর্শে এসেছিলেন। আর আগের সনাক্ত হওয়া চিকিৎসক চৌগাছায় প্রথম সনাক্ত হওয়া কিশোরকে চিকিৎসা দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, চৌগাছায় মারাত্মক কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেছে। অথচ চৌগাছার মানুষ লকডাউন মানছেন না। শহরের প্রায় সব দোকান খুব সকাল থেকে খোলা থাকছে। শহরের দুটি গার্মেন্টসও খুলে দেয়া হয়েছে। এখনই লকডাউনের বিষয়ে কঠোর না হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

শেয়ার