খোশ আমদেদ মাহে রমজান

বিল্লাল বিন কাশেম
পবিত্র রমজান মাসের ষষ্ঠ দিনের দোয়ার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ:
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা লা তাখজুলনি ফিহি লিতাআ’ররুদি মা’ছিয়াতিক; ওয়া লা তাদরিবনি বিসিয়াত্বি নাক্বিমাতিক; ওয়া যাহযিহনি ফিহি মিন মুজিবাতি সাখাত্বিক; বিমান্নিকা ওয়া আয়াদিকা ইয়া মুনতাহা রাগবাতির রাগিবিন।
অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার নির্দেশ অমান্য করার কারণে এ দিনে আমায় লাঞ্ছিত ও অপদস্থ করবেন না। আপনার ক্রোধের চাবুক দিয়ে আমাকে শাস্তি দিবেন না। সৃষ্টির প্রতি আপনার অসীম অনুগ্রহ আর নিয়ামতের শপথ করে বলছি আপনার ক্রোধ সৃষ্টিকারী কাজ থেকে আমাকে দূরে রাখুন। হে আবেদনকারীদের আবেদন কবুলের চূড়ান্ত উৎস।
রমজানে ইবাদতকর্ম ও পূণ্যের ধারা যেন সুন্দর ও সুচারুরূপে সম্পাদন করা যায়, সে লক্ষ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা। অন্য মাসের মতো বিতাড়িত শয়তান মানুষকে সহসা ধোঁকা দিতে পারে না। অন্যায় ও পাপাচারে সহজেই জড়াতে পারে না। তাই মুমিন বান্দারা সমর্পিতচিত্তে সৎকর্মে নিবেদিত হতে পারেন। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, রমজানের প্রথম রাত থেকে বিতাড়িত শয়তানগুলোকে বন্দি করে রাখা হয় এবং অবাধ্য জিনগুলোকে আবদ্ধ রাখা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সারা রমজান মাসে তা আর খোলা হয় না। আর জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। সারা রমজান মাসে তা বন্ধ করা হয় না। (বোখারি, হাদিস : ১৮৯৯; মূসলিম, হাদিস : ১৭৯৩; তিরমিজি, হাদিস : ৬৮২)
হাদিস শরিফে আরো উল্লেখ আছে, রমজান মাস কল্যাণ-সৌভাগ্য, রহমত-বরকত, ক্ষমা-মহানুভবতা ও দোয়া কবুল হওয়ার মাস। এই পবিত্র মাসে ফেরেশতারা মানুষের উদ্দেশে প্রতিদিন বলে থাকে, ‘হে কল্যাণের অভিসারী! আল্লাহর কথা স্মরণ করো, তার ইবাদত-বন্দেগিতে মগ্ন হও এবং একনিষ্ঠ মনে তাওবা করো। তোমরা এই মাসে যা কামনা করবে ও প্রার্থনা করবে, আল্লাহতায়ালা তা-ই কবুল করবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ৬৮২; ও ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৪২)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) ও আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, রমজানের প্রতিটি দিন-রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক মুসলমানের একটি করে দোয়া কবুল করা হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৭৪৫০)
রোজাদারের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত বেশি। তিনি নিজ কুদরতি হাতে তাদের প্রতিদান দেবেন। রোজা রাখার দরুন মুখে যে গন্ধ তৈরি হয়, তা-ও আল্লাহতায়ালার কাছে প্রিয়। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মেশক-আম্বরের সৌরভের চেয়েও অধিকতর পছন্দনীয়। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৪৫; নাসাঈ, হাদিস : ২২১৪)
রোজা রাখতে পারা পরম আনন্দের বিষয়। নবী করিম (সা.) এরশাদ করেন, রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ। একটি ইফতারের সময়। অন্যটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। (বোখারি, হাদিস : ১৮০৫; মুসলিম, হাদিস : ১১৫১; তিরমিজি, হাদিস : ৭৬৬)
বস্তুত মুসলিম-মননে চিরায়ত ইসলামি মূল্যবোধ, সতত চিন্তা-চেতনা, নিখাদ ধর্মবিশ্বাস ও উৎকৃষ্ট জীবনাদর্শ চর্চার উপলক্ষ তৈরি করে দেয় রমজান। সর্বগ্রাসী অপরাধপ্রবণতা রোধেও রমজান ভূমিকা রাখে। রমজানে আত্মত্যাগ ও সংযমচর্চার পাশাপাশি নীতিনৈতিকতা, সহিষ্ণুতা ও মানবতাবোধ, শালীনতা ও শুদ্ধাচার শিক্ষা এবং সহমর্মিতার মাধ্যমে মানবিক কল্যাণের পথ সুগমের সচেষ্ট হওয়া উচিত।

লেখক : ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
[email protected]

শেয়ার