যশোরে কেনাকাটা ও খাদ্য সহায়তা নেওয়ার সময় বিঘ্নিত নিরাপদ দূরত্ব

সালমান হাসান রাজিব
বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও যশোরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও জনসমাগম এড়ানোর বিষয়ে উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে মানুষজন। বিশেষ করে কেনাকাটা ও খাদ্য সহায়তা গ্রহণের সময় গায়ে গা লাগানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যদিও যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলছেন, তারা এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। মানুষজনকে সতর্ক করছেন।
দেশে করোনার বিস্তার রোধে একপ্রকারের লকডাউন চলছে। ভাইরাসটির বিস্তার রোধে বিদেশ ফেরতদের হোমকোয়ারেন্টাইন, কারো করোনা সংক্রমনের উপসর্গ থাকলে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। বিস্তার ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার আহবান জানানো হচ্ছে। কিন্তু জেনেশুনেও কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে মানছে না জনগণ।
সরেজমিন দেখা গেছে, কেনাকাটার চেয়ে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সময় সবচে বেশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বিঘিœত হচ্ছে। গায়ে গা- ঘেঁষে লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সহায়তা নিচ্ছেন অল্প আয়ের মানুষজন। যেটি এই মুহুর্তে করোনার সংক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার আশংকা সৃষ্টি করছে। এছাড়াও যশোর শহরে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার নির্ধারিত মূলে অল্প দামে খাদ্যসামগ্রি কেনার জন্য ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। এখান থেকে চাল-আটা কেনাবেচার সময় সময় রীতিমতন ভিড় জমছে। দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে শারীরিক কোর দূরত্ব বজায় না রেখেই কেনাকাটা করছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ।
শহরের মুজিব সড়ক এলাকায় লাইজু জামানের খাদ্যদ্রব্যের ডিলার পয়েন্টে প্রতিদিনই ভিড় জমিয়ে কেনাকাটা চলে। সেখানটায় কেনাকাটার সময় সামাজিক দূরত্ব না মানার বিষয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ হয়। এটি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসলে সেখানটায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য গতকাল রোববার প্রশাসনিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। এদিন বেলা এগারটার দিকে ওই ডিলার পয়েন্টটির সামনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতের জন্য সিভিল প্রশাসনের সাথে সেনাবাহিনী ও পুলিশের একটি টহল দল কাজ করে। তবে দলটি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর প্রতিদিনের মত ফের ভিড় জমিয়ে কেনাবেচা শুরু হয়।
জানা গেছে, দেশে করোনার প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য টেস্টের পরিমাণ পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে কমবেশি মানুষ করোনারভাইরাস বাহিত রোগ কোডিভ-১৯ আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে।
করোনা পরিস্থিতির এই মুর্হুতে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)’র বিশেষজ্ঞদের অভিমত, দেশে অল্পমাত্রায় করোনার সামাজিক সংক্রমণ চলছে। তবে কম্যুনিটি বা সামাজিক এই সংক্রমণটি ক্লাস্টার পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট এলাকার গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিদেশ ফেরতের ইতিহাস রয়েছে, যিনি সেখান থেকে সংক্রমিত হয়ে দেশে ফিরছেন। ফেরার পর তার মাধ্যমে পরিবারের ও ঘনিষ্ঠ অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। তাদের মাধ্যমে আবার অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে কোডিভ-১৯ রোগ।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, করোনার ক্লাস্টার ট্রান্সমিশন হলো কম্যুনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিক সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ। আর তাই এই মুহুর্তে এটির ব্যাপক কিস্তার রোধে জরুরি হলো সামাজিক দূরত্ব বজার রাখা ও ঘরে থাকা। তবে যশোরে এখনও কেউ করোনায় সংক্রমিত ও মারা যাওয়ার খবর না থাকায় সর্তকতার বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। যশোরে সামাজিক দূরত্বও কেউ খুব বেশি মানছে না ও জনসমাগমও থামছে না। ফলে যশোরে করোনার স্থিতিশীল অবস্থা থেকে যেকোন সময় অস্থিতিশীলতার আশংকা রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা জন্য সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। এছাড়া খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সময় কোথায় যাতে ভিড় না জমে সেটি নিয়েও ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।