যশোরের তীরেরহাট শহীদ ইদ্রিস মাধ্যমিক বিদ্যালয়
সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অপতৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় বিএনপি জামায়াত ক্যাডাররা

চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোর সদরের তীরেরহাট শহীদ ইদ্রিস আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে স্থানীয় বিএনপি জামায়াত অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা একই এলাকার এক মাদ্রাসা শিক্ষককে নিয়োগ পাইয়ে দিতে সাবেক এক ছাত্রনেতার সাথে হাত মিলিয়েছে। আর এই সুযোগে ছাত্রনেতা মোটা অংকের টাকাও বাগিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রনেতা যশোর থেকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনেককে ফোনে হুমকিও দিয়েছেন।
সূত্র মতে, তীরেরহাট শহীদ ইদ্রিস আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। চলতি মাসের (মার্চ) ৫ তারিখে আবেদনের শেষ তারিখ ছিল। গেল ২২ মার্চ নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির কারণে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, সহকারী প্রধান শিক্ষকে নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। তিনি বিএনপি জামায়াত পরিবারের সদস্য। ভাইস বিপুল তার আত্মীয় হওয়ার সুযোগে তিনি দুই দিক থেকেই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। একদিকে ভাইস বিপুলের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের সেন্টিমেন্ট কাজে লাগাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতকে কাছে টেনে দলভারি করছেন। তার হয়ে স্থানীয়ভাবে কাজ করে দিচ্ছেন ইউপি মেম্বর হত্যা মামলার আসামি আলমগীর হোসেন। আলমগীরসহ তীরেরহাটের আইনাল সর্দার ও আব্দুল মালেক, বালিয়াঘাটের আসাদুজ্জামান ডাবলু, স্থানীয় যুবদল সভাপতি খলিলুর রহমান, এনামুল হক শান্তি, আলী আহম্মদ প্রায়ই মহড়া দিচ্ছে মাদ্রাসায় কর্মরত গোলাম মোস্তফার পক্ষে। সূত্রের দাবি, গোলাম মোস্তফাকে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভাইস বিপুল মোটা আংকের টাকা নিয়েছে। এজন্য গোলাম মোস্তফার পাল্লা ভারি করতে বিএনপি-জামায়াতকেও কাজে লাগাচ্ছে। অবশ্য ভাইস বিপুল এক সাংবাদিককে বলেছেন, ওই এলাকায় জামাত-বিএনপি ছাড়া লোক নেই। তাদের আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা করছেন!
বিদ্যালয়ের সভাপতি আক্তারুজামান অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গোলাম মোস্তফাকে নিয়োগ দিতে সন্ত্রাসী বাহিনী পর্যন্ত ব্যবহার করা হচ্ছে। যেটা কাম্য নয়। আমরা চেয়েছিলাম ম্যানেজিং কমিটি স্বচ্ছভাবে নিয়োগ দিবে। যিনি পরীক্ষায় ভাল করবেন তিনিই নিয়োগ পাবেন। কিন্তু গোলাম মোস্তফাকে নিয়োগ দিতে মহড়া করা হচ্ছে। সাংবাদিক ও প্রশাসনকেও ভুল বোঝাচ্ছে। একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন নোংরামিতে এলাকার সচেতন মহল হতাশ হয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, কমিটির সিদ্ধান্তে নিয়োগ হবে। কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেব, তাই-ই করতে হবে। এ নিয়ে এলাকার পরিবেশ খারাপ করা ঠিক হবে না।

শেয়ার