করোনাভাইরাসে দেশে আরও একজনের মৃত্যু

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ পার হওয়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, যা এখন সাড়ে ১৯ হাজারেরও বেশি বলে জানাচ্ছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়। আর বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে পাঁচজন।
আসছে দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র প্রাদুর্ভাবের নতুন উপকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারত দেশজুড়ে পুরোপুরি ২৪ ঘণ্টার লকডাউন শুরু করেছে।
একদিকে এই মহামারির প্রাণকেন্দ্র চীনের হুবেই প্রদেশ বুধবার থেকে লকডাউন তথা অবরুদ্ধ দশা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে অপরদিকে বহু দেশ নতুন করে লকডাউন শুরু করেছে বা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেশী মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো দুই জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে আর সৌদি আরব, কেপ ভার্দিতে ঘটেছে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা।
বিশ্বজুড়ে প্রবল আতঙ্ক তৈরি করা ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উৎপাদন স্থবির করার হুমকি তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু ও সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিস্টেম সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (সিএসএসই) দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী তুলে ধরা হল।
* রয়টাস বলছে, ১৯৭টি দেশ ও অঞ্চলে পৌঁছে যাওয়া ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ ২১ হাজার লোক আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৮ হাজার ৮০০ লোকের।
অপরদিকে জনস হপকিন্স জানাচ্ছে, বিশ্বের ১৭১টি দেশে ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ৩৫ হাজার ৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬২৫।
* রয়টাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আক্রান্তদের মধ্যে এক লাখ আট হাজার ৭৪৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, হপকিন্সের হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটি এক লাখ নয় হাজার ১৯১ জন।
নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে পাঁচজন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে কারও মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে আরও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো মোট সাতজনে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮২ জনের।
সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির মধ্যে গত ১৮ মার্চ সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিদেশ থেকে আসা একজন রোগীর পরিবারের সদস্য তিনি।
“অসুস্থ হওয়ার পর ঢাকার বাইরে একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে তাকে সেখান থেকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
“তার ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন ছিল। এ সমস্ত জটিলতার কারণে তিনি আজ সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”
এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুজনের ক্ষেত্রে পরপর দুবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ আসায় তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। তিনি বলেন, দেশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৪৭ জন। আরও ৪৭ জন আছেন আইসোলেশনে।

শেয়ার