শরণখোলার স্কুল শিক্ষিকা ৪ বছর ধরে থাকেন খুলনায়

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ শিক্ষা নীতিমালা উপেক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে খুলনায় বসবাস করেও নিয়মিত বেতন ভাতা ভোগ করছেন শরণখোলার এক স্কুল শিক্ষিকা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল আকনের মেয়ে আসমা আক্তার ২০১০ সালে উপজেলার খুরিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষকা পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বদলী হয়ে ২০১৩ সালের একই উপজেলার ১৯নং রাজাপুর (ডিভিপাড়) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখান থেকে ২০১৬ সালে কিছু দিনের জন্য ডেপুটিশনে খুলনায় চলে যান। সেই থেকে তিনি গত ৪ বছর যাবৎ খুলনার দৌলাতপুরের যোগীপোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। তবে কর্মক্ষেত্র খুলনায় হলেও আসমার নিয়মিত বেতন ভাতা তুলছেন ১৯নং রাজাপুর (ডিভিপাড়) বিদ্যালয়ের অনুকুলে। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা নীতি অনুসারে কোন স্কুলে শিক্ষক সংকট থাকলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে ভেঙ্গে না পড়ে সেক্ষেত্রে আপদকালীন সময়ের জন্য (ডেপুটিশনে) একজন শিক্ষক ৩ থেকে ৬ মাস থাকতে পারবেন। এছাড়া এক বছর হলে তা আপনা-আপনি বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে কেউ যদি তার নিজের স্বার্থে অনৈতিক ভাবে ওই প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর অবস্থান করেন। এক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা নীতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করছেন। তবে, আমার জানামতে দৌলাতপুরের ওই স্কুলে শিক্ষক সংকট নেই। এছাড়া ওই শিক্ষিকাকে শরণখোলায় ফিরে অসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে কিন্তু তিনি বিষয়টি আমলে নেননি। শুনেছি তার স্বামী রফিকুল ইসলাম রুবেল বিআরটিএ’র কর্মকর্তা। তিনি খুলনা ডিডি অফিসের এক স্টাফকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এই অনৈতিক সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছেন। কিন্তু বড় স্যারেরা কেউ কিছুই বলছেন না। অপরদিকে, ১৯নং রাজাপুর (ডিভিপাড়) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বলেন, শুনেছি শিক্ষিকা আসমা ডেপুটিশনে আছেন। তবে ৪ বছর ডেপুটিশনে থাকা নিয়মবহির্ভুত কি-না তা অফিসের স্যারেরা ভাল জানেন ।
এ বিষয়ে আসমা আক্তার বলেন, আমি নিয়ম নীতি মেনে খুলনায় আছি। এছাড়া বদলীর জন্য চেষ্টা চলছে। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে হয়ে যাবে। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশ্রাফুল ইসলামের মুঠো ফোনে একাধিক বার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

শেয়ার