যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার প্রতিবেদন একপেশে, অগ্রহণযোগ্য: তথ্যমন্ত্রী

সমাজের কথা ডেস্ক॥ অনিয়মের অভিযোগবিদ্ধ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ হয়নি বলে তুলে ধরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনকে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গত ১১ মার্চ বাংলাদেশের ওপর যেই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, তা একপেশে ও অগ্রহণযোগ্য।”

উল্টো যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে এ বছরের প্রথমদিকে নানাভাবে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবছর সেদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ হতাহত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিনা ওয়ারেন্টে অনেক মানুষকে গ্রেপ্তারও করেছে।”

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ২০১৯ সালের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশে গত জাতীয় নির্বাচনে ব্যালটে সিল মারা, বিরোধী দলের পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ‘সুযোগ’ নিয়ে নির্বাচনে সংখ্যারিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শেখ হাসিনা ক্ষমতা পেলেও নানা অনিয়মে কলঙ্কিত হওয়া ওই নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু বিবেচনা করা যায় না’।

“নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও হয়রানি, ভয় দেখানো, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য এমনসব খবর ছিল যার কারণে অনেক বিরোধী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা সভা-সমাবেশ ও অবাধে প্রচার চালাতে পারেননি।”

ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের ‘বেশিরভাগ পর্যবেক্ষককে প্রয়োজনীয় সময়সীমার মধ্যে প্রত্যয়নপত্র ও ভিসা দেওয়া হয়নি’ বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

“ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) সদস্য ২২ এনজিওর মধ্যে মাত্র সাতটিকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনজিওবিষয়ক ব্যুরো ও নির্বাচন কমিশন।”

যেসব তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তার উৎসের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান।

শেয়ার