যশোর ইনস্টিটিউটের ২০টি পদে ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ডা. লিটু-সেলিম প্যানেল ১৮টিতেই জয়ী

সালমান হাসান রাজিব
যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে ২০ পদের ১৮টিতেই জয়ী হয়েছেন ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু-কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্বাধীন সংস্কার ও উন্নয়ন প্যানেলের প্রার্থীরা। বিপরীতে পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্যানেল থেকে মাত্র দুইজন ডেপুটি প্যানেল লিডার এজেডএম সালেক স্বপন ১২শ’ ৪৭ ও অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা ১৩শ’ ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এমনকি প্যানেল লিডার ড. মোস্তাফিজুর রহমান মাত্র ৯শ’ ৮১ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। অন্যদিকে, সংস্কার ও উন্নয়ন প্যানেলের প্যানেল লিডার ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু সর্বোচ্চ ১৮শ’ ৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। আর এ প্যানেলের ডেপুটি লিডার কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম ১৬শ’ ৩০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। তাদের প্যানেলের অন্য বিজয়রা হলেন, শেখ রাকিবুল আলম জয় (১১৪২), আব্দুর রহমান কিনা (১১৮৮), এস নিয়াজ মোহাম্মদ (১৩৮২), অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার বাবু (১৩৪৪) অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন টুলু (১২৭৯), আব্দুর রাজ্জাক (১৫২৩), এমএ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল (১৩৯৮), মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাক (১২৩৭), এসএম আজহার হোসেন স্বপন (১৩০৬), মিনারা খন্দকার (১১৬৭), অ্যাডভোকেট চুন্নু সিদ্দিকী (১৩৯৬), রওশন আরা রাসু (১২৯৯), এ এম মহিউদ্দিন লালু (১২৭৯), অ্যাডভোকেট আবু সেলিম রানা (১২১১), অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইসহক (১৫৭২) ও আহসান হাবিব পারভেজ (১৩৫০)।

এদিকে ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও এজেডএম সালেকের নেতৃত্বাধীন পরিবর্তন ও উন্নয়ন সমিতির পরাজিত প্রার্থীরা ভোট পেয়েছেন, সহকারী অধ্যাপক ইবাদত আলী (৮১০), অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার (৯৭২), কাজী লুৎফুন নেছা (১১১৮), মোস্তাফিজুর রহমান কাবুল (৮৪৮), অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু (১০৩০), শ্রাবস্তী আহমেদ (১০৬৮), ডা. জহিরুল ইসলাম (৯৬৯), হাচিনুর রহমান (৯০৮), ইমরান সাদিক (৮৮১), মোস্তাফিজুর রহমান কবীর (৮২০), সানোয়ার আলম খান দুলু (১০৫৭), অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস (৭৪৫), অ্যাডভোকেট প্রশান্ত দেবনাথ (৮৫৮), অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল (৮৪০), চৌধুরী আশরাফুল ইসলাম মিলন (৮৪৮), সুখেন মজুমদার (৮০৩) ও অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু (৮৫৩)।
গতকাল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ২ হাজার ৪৯২ জন প্রার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠানের ৩ হাজার ৯৫ সদস্যের মধ্যে ওই সংখ্যক ভোট কাস্ট হয়। এদিন সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে গনণা শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত এই ভোট গণনা চলে।

ভোট গ্রহণ শুরুর সময় ছিল সকাল দশটা। তবে উৎসুক ভোটরাদের অনেকের দশটা বাজার তর সয়নি। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন তারা। সকাল সকালই তিনটি কেন্দ্রের সামনে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। কমছে কম পাঁচ বছর। যেটি একেবারে কম সময় নয়। এত দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের আয়োজন হওয়ায় ভোট দিতে মুখিয়ে ছিলেন ইনস্টিটিউটের সদস্যরা। ফলে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে দলে দলে ভোট দিতে আসা সদস্যরা ভাসলো আনন্দে।
গতকাল উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতিষ্ঠানটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন অনেক সকাল থেকেই ইনস্টিটিউট চত্বরে সদস্যদের আনগোনা শুরু হয়। বেলা বাড়তে থাকলে সদস্যদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠান চত্বর। ভোট গ্রহণের তিনটি কেন্দ্র আলমগীর সিদ্দিকী হল, লাইব্রেরি ও বই ইস্যু বিভাগের সামনে ভোটারদের লম্বা লাইন তৈরি হয়। প্রিয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ গঠনের জন্য আয়োজিত নির্বাচনে ভোট দিতে শহরের আশপাশসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করা সদস্যরা এদিন ইনস্টিটিউটে ছুটে আসেন। ফলে শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া বিকাশের এই তীর্থপীঠের আঙিনা জুড়ে এক অন্যরকম বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। ভোটের আমেজে ইনস্টিটিউট চত্বর যেন রূপ নেয় মিলন মেলায়।