অভয়নগরে দিনমজুরের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার, আটক ২

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ অভয়নগরে রিপন শেখ (২৫) নামে এক দিনমজুরের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার একতারপুর গ্রামের আলাল শেখের বাড়ির পেছনের একটি বাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম ও খালা শ্বাশুড়ি আনোয়ারা বেগমকে আটক করেছে। নিহত রিপন শেখ উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের কোটা গ্রামের শুকুর আলী শেখের ছেলে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভয়নগর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধিন আছে।
নিহতের পিতা শুকুর আলী শেখ বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছেলের বৌ শাহানাজ বেগম, বৌ এর খালা আনোয়ারা বেগম ও ইব্রাহিম হোসেন নামে এক লম্পট আমার ছেলেকে হত্যা করে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখে। হত্যার কারণ সম্পর্কে শুকুর আলী জানান, তার ছেলের বৌ এর সাথে ইব্রাহিমের অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ধরা পড়লে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তিনজন আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
নিহতের স্ত্রী শাহানাজ বেগম বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে ট্রেনের ধাক্কায়। রেল কর্তৃপক্ষের মামলা এড়াতে নওয়াপাড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রাশিদা বেগম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিক লাশটি সরানোর পরামর্শ দেন। যে কারণে স্বামীর লাশ একটি ভ্যানে করে একতারপুর গ্রামের একটি বাগানে ফেলে রাখা হয়। হত্যাকা-ে তাদের তিনজনের জড়িত থাকা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
নওয়াপাড়া পৌরসভার সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রাশিদা বেগম বলেন, নিহতের শ্বশুর বাড়ির কয়েকজন এবং ব্যবসায়ী রফিকের পরামর্শে লাশ রেললাইনের পাশ থেকে ভ্যানযোগে কেন সারনো হয় তা আমার জানা নেই। তবে স্থানীয় রবি নামের এক ভ্যান চালকের ভ্যানে করে লাশটি সরানো হয়েছিল। এর বেশি তিনি আর কিছুই বলেতে পারেননি।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম জানান, নিহত রিপন শেখ বৃহস্পতিবার রাতে নওয়াপাড়া পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের তালতলার একটি বস্তিতে তার শ্বশুর বাড়িতে ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় না পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ময়না তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে। যে ভ্যানে করে লাশ নেয়া হয়েছিল সেই ভ্যান চালক রবি পালিয়ে গেছে। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী ও খালা শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

শেয়ার