যশোর আদালতের সরকারি কৌশুলিকে নিয়ে হৈচৈ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর আদালতের সরকারি কৌশুলি (জিপি) মনোরঞ্জন কর্মকারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি এবং আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলার বাদী পক্ষের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে প্রায় দেড় মাস আগে তার বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে একটি মামলা হয়। বিষয়টি সেই সময় গোপন থাকলেও সম্প্রতি বাদী তা ফাঁস করে দিয়েছেন। ফলে আদালত এ ঘটনায় ওই কৌশুলিকে শো’কজ করেছেন বলেও স্বীকার করেছেন মনোরঞ্জন কর্মকার।
কৌশুলি দাবি করেছেন, ভূমি সংক্রান্ত একটি মামলা যশোরে আদালতের রায় বাদী পক্ষের অনুকূলে যায়। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করায় বাদী তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির একটি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
অভয়নগর উপজেলার গোলাম মোস্তফার ছেলে জুলফিকার মোল্যার অভিযোগ, উপজেলার বারান্দী মৌজার এসএ ১১৪৫ নম্বর দাগে ১৩ শতক এবং ১১৪৬ দাগের ২৫ শতক জমির মধ্যে ৭ শতক জমি দুুটি দাগে মোট ২০ শতক জমি তার পিতা গোলাম মোস্তফার। ওই জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়ে যাওয়ায় তারা অবমুক্তির জন্য আদালতে মামলা করেন। ২০১৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাদীর পক্ষে মামলার রায় এবং ৪ অক্টোবর ডিক্রি হয়। এই রায় এবং ডিক্রি তাদের পক্ষে যাওয়ায় ২০ শতক জমি অর্পিত তালিকা থেকে অবমুক্ত করা হয়। এরপর ওই রায় এবং ডিক্রির বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে জেলা জজ ও আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয়। কিন্তু আপিল ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৯ মে পূর্বের দেয়া আদালতের রায় বহাল রাখেন। এর ফলে গোলাম মোস্তফার ছেলে জুলফিকার আলী মোল্যা, সরোয়ার মোল্যা ও নুর ইসলাম মোল্যা দু’টি আদালতের রায় ডিক্রির বুনিয়াদে জমির নামপত্তনের জন্য জেলা প্রশাসকের দফতরে আবেদন করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে এ বিষয়ে সরকারি কৌশুলি (জিপি) মনোরঞ্জন কর্মকারের মতামত চাওয়া হয়। এই সুযোগ নিয়ে ২০১৯ সালের ৪ অক্টোবর মনোরঞ্জন কর্মকার মণিরামপুর উপজেলার নেহালপুর কালীবাড়ি মন্দিরের কাছে ডেকে নিয়ে জুলফিকার আলী মোল্যা, সরোয়ার মোল্যা ও নুর ইসলাম মোল্যার কাছে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় তিনি তাদের বলেন যে, টাকা দিলে তাদের পক্ষে মতামত দেয়া হবে। কিন্তু তারা তাকে কোন ঘুষ দিতে রাজি হননি। পরে জুলফিকার আলী মোল্যা, সরোয়ার মোল্যা ও নুর ইসলাম মোল্যা ঘুষ দাবি সংক্রান্তে আদালত ইতিপূর্বে রায়ের বিরুদ্ধে অবমাননার অভিযোগ এনে গত ২৬ জানুয়ারি জেলা জজ আদালতে মনোরঞ্জন কর্মকারের বিরুদ্ধে মামলা (মিস কেস নং-৩/২০২০) করেন। মামলা দায়ের করার পর আদালত তাকে (মনোরঞ্জন কর্মকার)কে তলব করে শোকজ করেছেন।
এদিকে সরকারি কৌশুলি (জিপি) মনোরঞ্জন কর্মকার জানান, জুলফিকার আলী মোল্যা গং যে দলিলের বুনিয়াদে জমি দাবি করছেন সেটি জাল। আসল দলিল তার কাছে আছে। প্রয়োজনে তিনি দু’টি দলিলই সাংবাদিকদের দেখাতে পারবেন। তিনি আরো বলেন, জুলফিকার আলীর পক্ষে যাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। এ কারণে বাদী পক্ষ তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির মিথ্যা মামলা করেছেন। তবে মনোরঞ্জন কর্মকার স্বীকার করেন যে, তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় আদালত তাকে শোকজ করেছেন।

শেয়ার