যশোরে কলেজছাত্রী ঐশীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরে কলেজছাত্রী মাহমুদা খাতুন ঐশীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কমিউনিটি পুলিশিং) সুমন ভক্ত তিন ভাইকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্তরা হলো, নতুন উপশহরের এস ব্লকের বাসিন্দা সৈয়দ রওশন আলীর তিন ছেলে সৈয়দ শামীম মেহেদী, সৈয়দ নাঈম মেহেদী ও সৈয়দ নাসিম আহম্মেদ।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, যশোর সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী এবং নতুন উপশহর ডি-ব্লকের বাড়ির ভাড়াটিয়া আসাদুজ্জামানের মেয়ে মাহমুদা খাতুন ঐশী। আসামি নাঈম ও নাসিমের সাথে ঐশী একই কলেজে লেখাপড়া করতো। নাঈম ও নাসিমের মাধ্যমে তাদের বড় ভাই শামীমের সাথে ঐশীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
বিয়ের প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে ঐশীর কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে শামীম। গত বছরের ৩ মে কলেজ ছুটি হলে ঐশীকে ফুঁসলিয়ে শামীম তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই সময় তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে শামীম। এরপর একাধিকবার তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। একই বছরের ১৭ জুলাই ঐশী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে যশোর কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় ঐশী আড়াই মাসের অন্তঃসত্বা। পাশাপাশি তার পেটের মধ্যে রক্তা জমাট অবস্থা রয়েছে। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তাকে অপারেশনের জন্য পরামর্শ দেন। তাকে রাতেই কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টার দিকে তার অপারেশন হয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওই রাতে ঐশীকে ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ ব্যাপারে নিহত ঐশীর পিতা আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ওই তিন সহোদরকে অভিযুক্ত করে আদালতে এই চার্জশিট দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত সৈয়দ শামীম মেহেদীকে পলাতক এবং অপর দুইজনকে আটক দেখানো হয়েছে।

শেয়ার