যশোরের চোরাচালান সিন্ডিকেটের প্রধান সুহিন প্রকাশ্যে, তবু পুলিশের চোখে পলাতক!

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আইনের চোখে পলাতক থাকলেও প্রকাশ্যেই পূর্বের মত নানা অপরাধ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার চোরাচালান সিন্ডিকেটের প্রধান দেলোয়ার হোসেন সুহিন। চোরাই পথে ভারত থেকে আনা ২৪০ বস্তা লোহার টুকরাসহ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে র‌্যাবের হাতে আটক হন তার ভাই কামাল হোসেন তুহিন। এঘটনার মামলায় আটক তুহিন ও তার ভাই সুহিনসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে থাকলেও আটক না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার বিশারত আলীর ছেলে ডাক্তার মিজানুর রহমান মজনু ৮২ নম্বর শংকরপুর মৌজায় হাল খতিয়ান ২৫০০ ও ৫৪৪ নম্বর দাগে ৭৬ শতক জমির মধ্যে থেকে ৪ দশমিক ২৫ শতক জমি মুস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী রুনা রহমানের কাছ থেকে ক্রয় করেন। কেনার পর থেকে ওই এলাকার জলিল মিস্ত্রির ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী দেলোয়ার হোসেন সুহিন জোর করে দখল করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে ডাক্তার মজনুর রহমান আদালতের দারস্ত হন। কিন্তু সুহিনের অবৈধ দখল থেকে উচ্ছেদ করতে পারছেন না। ফলে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ডাক্তার মজনুর রহমান।
অভিযোগ রয়েছে সুহিনের নেতৃত্বে তার ভাই কামাল হোসেন তুহিন একই এলাকার লিটন, ময়না, রহিম, বনিসহ কয়েকজনের একটি অপরাধী সিন্ডিকেট রয়েছে। সেই সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত ভারত থেকে চোরাই পথে লোহার টুকরা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যশোরে আনেন। এবিষয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাব-৬ যশোরের একটি টিম সুহিনের ড্যারায় অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ধুরন্দর সুহিন পালিয়ে চলে যায়। আর র‌্যাবের হাতে আটক হন তারই ভাই কামাল হোসেন তুহিন। এঘটনার মামলায় সুহিন এবং তপন নামে এক গাড়ি চালককে পলাতক আসামি করা হয়। মামলাটি কোতোয়ালি মডেল থানার এক দারোগা তদন্ত করছেন। কিন্তু এলাকায় থেকে প্রকাশ্যেই সুহিন পূর্বের মত সেই চোরাচালানী ব্যবসা করে আসছেন। অথচ পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, কোতোয়ালি থানার কয়েকজন কর্মকর্তা সুহিনের আস্তানায় বিভিন্ন সময় আড্ডায় দেন। সেই কারণে সুহিনকে আটকে পুলিশের পিছুটান রয়েছে। আবার তদন্ত কর্মকর্তার সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে পারে বলেও স্থানীয়রা ধারণা করেছেন।
সূত্রে আরো জানা গেছে, যশোরের প্রয়াত সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুল হত্যা মামলার আসামি তুহিন ও সুহিন। সে কারণে তারা এলাকায় জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ, জমি দখল, বাড়ি দখলসহ নানা অপরাধের সাথে তারা জড়িত।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, আটক তুহিন এবং তার ভাই সুহিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসীর রাম রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। তারা দুই ভাই বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক রঙ পরিবর্তন করে নিজেদের সন্ত্রাসী ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দেয়। জোর পূর্বক মানুষের জমি দখল, বাড়ি নির্মাণে চাঁদাবাজি, বোমাবাজি, অস্ত্র ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের মাধ্যমে ব্যবসা করে আসছে। ফলে তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা।

শেয়ার