যশোরে পুলিশের ‘জিন্দা লাশ’ উদ্ধার !

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা এক নারীকে (৩৫) নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলো যশোর পুলিশ। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া শব্দ না পেয়ে পুলিশ ধরেই নিয়েছিল নারী আর জীবিত নেই। ফলে পুলিশ ডেটবডি প্যাকেট নিয়ে লাশ উদ্ধার করতে যায়। জানালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করেছিল পুলিশ। এসময় ওই নারী নড়েচড়ে ওঠেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। চিকিৎসা দেওয়ার পর জানা গেলো ওই নারী মাদক সেবন করে ঘুমিয়ে পড়ে অসাড় হয়ে গিয়েছিল।
যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাঁঠালতলা এলাকার আব্দুস সাত্তারের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও দিলিপ কুমার ওরফে দিলুর স্ত্রী জেসমিন খাতুন। গত রোববার সন্ধ্যার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনি ঘুম থেকে উঠেননি। বাড়ির আশেপাশের লোকজনের সারাক্ষণ ডাকাডাকি, চিৎকার করেও কোন সাড়াশব্দ তার কানে পৌছায়নি। স্থানীয়রা মনে করেছেন তিনি মারা গেছেন। এরপর খবর দেয়া হয় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে পুলিশও ডেট বাডি ব্যাগ (মরদেহ বহনের ব্যাগ) ও নারী পুলিশ সদস্য নিয়ে হাজির হয়। সেখানেও পুলিশ অনেক ডাকাডাকি করেও জাগাতে পারেনি জেসমিনকে। পরে জানালা ভেঙ্গে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করা হয়। এ পর্যায়েও ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু তার সাড়া শব্দ মেলেনি। সবশেষে এক নারী পুলিশ সদস্য পা ধরে টান দিতেই জেগে উঠেন জেসমিন। এসময় বললেন-তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।
কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছেন, জেসমিন ওই এলাকার আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার স্বামী নব মুসলিম দিলীপ ওরফে দিলু একটি মাদক মামলায় কয়েকদিন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। ঘটনার দিন জেসমিন ওই বাড়িতে একা ছিলেন।
শেখ তাসমীম আলম আরো জানিয়েছেন, ওই নারী সম্ভবত মাদক সেবন করে থাকেন। স্বামী কারাগারে তিনি একা থাকেন বাড়িতে। নানা দুঃশ্চিন্তায় তিনি মাদক সেবন করে গভীর ঘুমে ছিলেন। তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার আহমেদ তারেক সামস তাকে মানসিক রোগী হিসেবে ভর্তি করে নেন।
এদিকে লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে ওই বাড়ির আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়। শেষে যখন জীবিত উদ্ধার হন জেসমিন তখন এলাকার লোকজন নানা মন্তব্য করেন। অনেকে ‘জিন্দা লাশ’ বলে মন্তব্যও করেন।

শেয়ার