শরণখোলায় তুচ্ছ ঘটনায় রাস্তায় বেড়া ঘেরা দিয়ে ১৫ পরিবারকে অবরুদ্ধ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ॥ বাগেরহাটের শরণখোলায় কলাই ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ তুলে বেড়া দিয়ে ১৫টি হতদরিদ্র পরিবারকে (প্রবেশ পথ) অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সন্ধ্যায় উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামে। এরফলে দিনমজুর পরিবারগুলো বাড়ি থেকে কাজে কর্মে বের হতে পারছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের মধ্যে শেফালী বেগম (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে আমার গৃহপালিত একটি গরু ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের চাচা এবং অমার প্রতিবেশি আনোয়ার জোমাদ্দারের কলাই ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। এতে তার ক্ষেতের সামান্য ক্ষতি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষরা গরুটিকে আঘাত করে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। সেই ঘটনার জের ধরে আনোয়ার জোমাদ্দার তার স্ত্রী এবং ছেলে ও মেয়েসহ তার বংশের ১০/১২ জন নারী পুরুষ একজোট হয়ে আমাদের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের বসত বাড়ি হতে রাস্তায় বের হওয়ার সকল দরজা (পথ) বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। যার কারণে এখন আমাদের কাজীপাড়ার প্রায় ১৫টি পরিবার অবরুদ্ব অবস্থায় রয়েছি। এছাড়া আমাদের গৃহপালিত প্রাণীসহ আমার স্বামীর ভ্যান গাড়ি বের করা নিয়ে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি আবেদন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা আবু হানিফ কাজি (৭০), নাজমা বেগম (৩৫) আঃ আজিজসহ (৪৫) একাধিক ব্যক্তি বলেন, অর্ধশত বছরের বেশি সময় ধরে আমাদের পুর্ব পুরুষসহ আমরা এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছি। আজ পর্যন্ত কেউ রাস্তা বন্ধ করেননি। কিন্তু হঠাৎ করে তুচ্ছ ঘটনায় যারা যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
এ ব্যাপারে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাচানুজ্জামান জোমাদ্দার বলেন, বিষয়টি কেউ আমাকে অবগত করেনি। তবে, খবর নিয়ে দেখা হবে। ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাধ্যমে অবগত হয়েছি। চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে আমি এলাকার বাইরে আছি। তাই কোন পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে এ ধরণের কাজ যারাই করুক না কেন তা মোটেই ঠিক হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাইলে আমার সহযোগিতা পাবে। অপরদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে সখিনা বেগম বলেন, রাস্তার জমি আমাদের, তাই বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করেছি। কারো ক্ষমতা থাকলে পারলে বেড়া তুলে দিয়ে যাক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্থফা শাহিন জানান, এ ধরণের অভিযোগ এখনও পাইনি। তবে, খোঁজ খবর নিয়ে শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার