যশোরে আড়তের কর্মচারী মুন্না খুন ॥ দুই দিনে আটক ও মামলা হয়নি সন্দেহের তালিকায় চার যুবক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরের বড়বাজারে আড়তের কর্মচারী ইমরান হোসেন মুন্না খুনের সাথে জড়িত চার জনের নাম উঠে আসছে। একাধিক ঘটনাকে সামনে নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। কিন্তু গত দুই দিনেও এই খুনের সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এই খুনের কারণ ও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এদিকে এঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি। গত বুধবার সন্ধ্যায় শহরের বড় বাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন ইমরান হোসেন মুন্না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের বড় বাজারের সেন্ট মার্টিস ফিস নামক একটি আড়তে কাজ করতেন ইমরান হোসেন মুন্না। মঙ্গলবার রাকিব হোসেন নামে ওই এলাকার এক যুবককে থাবা মারে মুন্না। এনিয়ে তাদের দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর বিষয়টি বাজারের লোকজন মিমাংসা করে দেয়। এছাড়া একই বাজারের নিরবের কাচামালের আড়তে কাজ করতো জাকির হোসেন নামে এক যুবক। অপরদিকে দিপকের কাচা মালের আড়তে কাজ করতো হোসেন আলী। গত চারদিন আগে তুচ্ছ ঘটনায় জাকির হোসেন ও হোসেন আলীর মধ্যে বিরোধে হাতাহাতি হয়। সেই বিরোধের ঘটনায়ও মুন্নাকে সন্দেহ করে তারা। ফলে রাকিব অথবা জাকির ও হোসেনের মধ্যে যে কোন একটি বিরোধে মুন্নাকে খুন করা হতে পারে।
তবে স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, যশোর বড় বাজার এলাকায় উঠতি বয়সের কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল কিশোর গ্যাং রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় বাজার লোন অফিসপাড়া ও পশ্চিম বারান্দীপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী মূলক কর্মকা- করে আসছে। তাদের হৃদয়, রাকিব, পলাশ ও শিমুল উল্লেখ যোগ্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এরাই বড়বাজার এলাকা দাপিয়ে বেড়ায়। এদিনে মুন্না খুনের সাথে এই চারজনসহ কয়েকজনের নাম জোরে সোরে উঠে আসছে। সে কারণে গত বুধবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে ওই গ্রুপটি মুন্নাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। সে কারণে পুলিশ ও রাকিবকে থাবা মারা অথবা হোসেন এবং জাকিরের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি মাথায় নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে মুন্নার লাশ যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে পরিবারের লোকেরা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোর মেডিকেল কলেজের ফরেনিসিক বিভাগের অধ্যাপক বাবলু কিশোর বিশ্বাস।
এদিকে ঘটনার দুইদিন পার হলেও এঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যার কারণও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা করেনি পরিবার। বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, মুন্নার খুনিদের আটক এবং কারণ উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

শেয়ার