জামিন পেয়ে মুক্ত হয়ে যশোরে যুবককে খুন করলো সন্ত্রাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পূর্ব বিরোধের জের ধরে যশোর শহরের বড়বাজারে ইমরান হোসেন মুন্না (২৮) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার সন্ধ্যায় মাছ বাজার এলাকার আদমের চায়ের দোকানের সামনে এঘটনা ঘটে। নিহত মুন্না একই এলাকার মৃত আফতাব উদ্দিন হিরুর ছেলে। তিনি একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন।
নিহত মুন্নার বড় ভাই সাদিকুল ইসলাম বলেন, বড় বাজারের পলাশ নামে এক সন্ত্রাসী চারদিন আগে মুন্নার কাছে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি মুন্না পুলিশকে জানায়। পুলিশ পলাশসহ তিনজনকে আটক করে। মঙ্গলবার তারা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো এবং আটক হওয়ায় পলাশ মুন্নার উপর ক্ষিপ্ত হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বড়বাজারের মাছ বাজার এলাকার আদম আলীর চায়ের দোকানের সামনে ছিলেন। এসময় আচমকা পলাশের নেতৃত্বে ৪/৫ জন এসে মুন্নাকে বুকে, দুই রানে ও ডান হাতে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এসময় মুন্নার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ওই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে চলে যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান পান্নু যুবক মুন্নাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে মুন্নার মৃত্যু খবর ছড়িয়ে পড়লে মুন্নার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে যান। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় হাসপাতালের বাতাস ভারি হয়ে ওঠে।
নিহত মুন্নার চাচা রেজাউল ইসলাম রেজা বলেছেন, পলাশের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিল। এমনকি মুন্নার কাছেও কয়েকদিন আগে চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানায় মুন্না। পুলিশ পলাশসহ তিনজনকে আটক করে। কিন্তু একদিন পরই তারা মুক্তি পায়। মঙ্গলবার মুক্তি পেয়েই তারা মুন্নাকে হুমকি দিতে থাকে। নিহত ইমরানের আরেক চাচা শেখ মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ইমরান আমার আড়ৎদারি ব্যবসা দেখাশুনা করতো। পাওনাদারদের কাছে টাকা চাইতে সন্ধ্যায় সে দোকান থেকে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে খবর আসে স্থানীয় পলাশসহ কয়েকজন তাকে চাকু মেরেছে। মঙ্গলবার পলাশ কারাগার থেকে বের হয়েছে। পলাশের সাথে মুন্নার কোন বিরোধ ছিলো কিনা আমার জানা নেই।’ তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, ঘটনার সাথেই পুলিশের একাধিক টিম হত্যার কারণ উদঘাটন ও অভিযুক্তদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। হত্যার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বের কোন দ্বন্দ্বের কারণে দুর্বত্তরা ইমরানকে হত্যা করতে পারে।

শেয়ার