গুজরাট দাঙ্গার স্মৃতি ফেরাচ্ছে দিল্লির সংঘর্ষ

সমাজের কথা ডেস্ক॥ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতা চলছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) পক্ষে-বিপক্ষে ছোটখাট সংঘর্ষ থেকে যার সূত্রপাত হয়ে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে পুরোমাত্রার ধর্মীয় সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।

মসজিদ, বাড়ি, দোকান কোনেকিছুই বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সাংবাদিকদেরকে থামিয়ে তাদের ধর্ম জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। আহত মুসলিমদেরকে জাতীয় সংগীত গাইতে বলা হচ্ছে, নির্দয়ভাবে পেটানো হচ্ছে। চার দিন ধরে রাজধানীতে চরম সহিংসতায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের এ ‘অপারগতা’ পরিকল্পিত কিনা- ঠিক যেমন অভিযোগ উঠেছিল ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময়। প্রশাসন ‘নিষ্ক্রিয়’ থেকে দিল্লির সংঘর্ষ বাড়িয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা।

সহিংসতার চারদিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রথম টুইটে শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। দাঙ্গায় নিহতদের জন্য কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি তিনি। দিল্লির শাসনক্ষমতায় থাকা আম আদমি পার্টিও বিশেষ কিছু না করার জন্য সমালোচিত হয়েছে। বিরোধীদলগুলোও একযোগে কোনো সমাবেশ করেনি। তবে বেশিরভাগ মানুষই আঙুল তুলেছেন দিল্লি পুলিশের ব্যর্থতার দিকে।রাজধানী শহরে পুলিশ নীরব দর্শক কেন হবে? ‘দিল্লিতেও ২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার মডেল চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) এক নেতা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদেরও অনেকেই বলছেন, পুলিশ আগে থেকে আরও সক্রিয় হলে দিল্লির পরিস্থিতি এতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেত না। গুজরাট দাঙ্গায় যে অভিযোগ ছিল, দিল্লির পুলিশের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছেন তারা। কেন সেনা নামানো হল না, সে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনে। দায়িত্বে আছেন অমিত শাহ। কাকতালীয়ভাবে, ২০০২ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর তার মন্ত্রিসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই অমিত শাহ-ই। ২০০২ সালের গুজরাটের সেই প্রেক্ষাপট ভেসে উঠছে অনেকের মনেই।

ওই বছর ২৭ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের গোধরায় সবরমতি এক্সপ্রেসে আগুন দেওয়ার পর থেকেই গোটা গুজরাট জুড়ে শুরু হয়েছিল হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ। প্রায় তিন মাস ধরে চলা সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল ১০৪৪ জনের। নিহতদের ৭৯০ জন ছিলেন মুসলিম। হিন্দু ছিলেন ২৫৪ জন। গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদী দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেননি, উল্টে প্রচ্ছন্ন মদদ দিয়েছিলেন দাঙ্গায়। পুলিশ-প্রশাসনকেও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেননি বলে পরে অভিযোগ উঠেছিল। দিল্লির এবারের সংঘর্ষেও ফিরে এসেছে সেই প্রশ্ন।

শেয়ার