পাপিয়ার লাখ লাখ টাকার কারবার চলত নগদে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ থাকতেন পাঁচ তারকা ওয়েস্টিন হোটেলের বিলাসবহুল কক্ষে, যার খরচ মিটিয়েছেন কোটি টাকা; ব্যবহার করতেন পাঁচটি গাড়ি; হোটেল কর্মচারীদের প্রতিদিন টিপসই দিতেন ৮-১০ হাজার টাকা।
যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ বিশাল এই ব্যয় নগদেই মেটাতেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। কিন্তু এই অর্থ তিনি পেতেন কোথায়- তার বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
র‌্যাব কর্মকর্তাদের ধারণা, মাদক-অস্ত্র চোরাচালান, জমি দখল করিয়ে দেওয়া, হোটেলে নারীদের দিয়ে যৌন বাণিজ্য থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আসত ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের এই নেত্রীর হাতে।
চার মাস আগের ক্যাসিনো অভিযানের মতোই গত শনিবার ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে পাপিয়াকে গ্রেপ্তার এখন সারাদেশে আলোচিত ঘটনা।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পাপিয়া। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় পরিচয়ের কারণে তিনি ছাড় পাবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি এসেছে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে।
ভারত যাওয়া সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন পাপিয়া, তার স্বামী নরসিংদীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন এবং তাদের সহযোগী আরও দুজন।
ভারতে যাওয়ার সময়ও পাপিয়া ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেনসিয়াল স্যুইটের বুকিং বাতিল করেননি বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর উপঅধিনায়ক সাফাত জামিল ফাহিম, যার একটি কক্ষের প্রতি দিনের ভাড়া ২০ হাজার টাকার বেশি।
তিনি সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছরের ১২ অক্টোবর সে প্রথম হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেনসিয়াল স্যুইটটি ভাড়া নেয়। গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার নামেই ছিল এই স্যুইট। তবে মাঝে বেশ কিছুদিন ছিলেন না।”
সাফাত জামিল জানান, এই স্যুইটে মোট চারটি কক্ষ। তবে আরও দুটো কক্ষ ভাড়া নেওয়া ছিল পাপিয়ার নামে।
গ্রেপ্তার পাপিয়ার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো হয়েছে, তার বিবরণ অনুযায়ী মোট ৫১ দিন ওই কক্ষ ছিলেন শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। আর এ জন্য বিল মিটিয়েছেন ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৭ টাকা। আর এই হোটেলে এই সময়ের জন্য অবস্থানকালে বার বার ব্যবহারের জন্য ব্যয় করেছেন এক কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতিদিন হোটেল বেয়ারাদের টিপস দিতেন ৮/১০ হাজার টাকা।

এই বিল পাপিয়া নগদেই মেটাতেন জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা ফাহিম বলেন, তিনি কোনো চেক কিংবা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেননি।
বিশাল অঙ্কের এই অর্থের উৎস কী, তার খোঁজ র‌্যাব কর্মকর্তারাও করছেন। তারা এটুকু নিশ্চিত এই অর্থ বৈধ পথে আসেনি। র‌্যাব কর্মকর্তা সাফাত বলেন, দুটি র‌্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া তার আয়ের অন্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
পাপিয়ার ব্যবসার মধ্যে একটি ‘কার একচেঞ্জ’ নামে এফডিসি গেইটের পাশের একটি দোকান। এছাড়াও নরসিংদীতে একটি গাড়ি সার্ভিসিংয়ের প্রতিষ্ঠান।
‘কার একচেঞ্জ’ নামের দোকানের প্রকৃত মালিক জুবায়ের নামে এক ব্যাক্তি। এই প্রতিষ্ঠানে এক কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন পাপিয়া। এই টাকার কোন উৎস পায়নি র‌্যাব। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, পাপিয়া এই টাকার উৎস বলতে পারেননি।

শেয়ার