যশোরের ১৩শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব নির্বাচন করলো শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ স্কুলের আঙ্গিনায় রংবেরঙের পোস্টারে প্রার্থীদের নানান প্রতিশ্রুতি। মাঠজুড়ে দীর্ঘ লাইন। সারিবদ্ধ ও উৎসব মুখর পরিবেশে লাইনে দাঁড়িয়ে বুথে ঢুকে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসছে। ভোট কেন্দ্র দায়িত্ব পালন করছে নির্বাচন কমিশনার, ম্যাজিস্ট্রেট, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা। পাশাপাশি কাজ করছে নিরাপত্তা কর্মীরাও। এটা কোন জাতীয় বা স্থানীয় সরকারের কোন নির্বাচনের দৃশ্য না। যশোর ইন্সটিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমনি দৃশ্য দেখা গেছে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনে।
গতকাল রোববার সারাদেশের ন্যায় যশোরে এক হাজার ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬৯টি ইবেতেদায়ী মাদ্রাসায় স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন সকাল ৯ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই স্টুডেন্টস ক্যাবিনেটের ভোট গ্রহণ চলে। ২টার পর ভোট গণনা করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যার মাধ্যমে ৯ হাজার ৫০৬ জন নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস মতে, স্কুলজীবন থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভ্যাসসহ সাতটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও মূল্যবোধ অর্জনে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনে মূল্য লক্ষ। প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচন পরিচালনা, ভোট গ্রহণ ও ফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়াটি গণতান্ত্রিক উপায়ে সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীরা। জেলার এক হাজার ২৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬৯টি ইবেতেদায়ী মাদ্রাসায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ভোটের মাধ্যমে সাতজন করে নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছে। সেই হিসাবে ভোটের মাধ্যমে ৯ হাজার ৪৭৮ জন নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনে প্রাথমিক কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই এই নির্বাচনে একে অন্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এমনকি শিক্ষার্থীরাই এতে নির্বাচন কমিশনার, ম্যাজিস্ট্রেট প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট ও নিরাপত্তা কর্মীর দায়িত্ব পালন করে।
যশোর ইন্সটিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমেল হোসেন জানান, এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের ভেতরে অল্প বয়সেই শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্র চর্চার সাথে সম্পৃক্ত হবার সুযোগ পাবে। যেটি তাদের ভবিষ্যৎ জীবনে গণতন্ত্রের চর্চার সহায়ক হবে। শিক্ষার্থীদের ভেতর দিয়ে তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী বিকশিত হবে। এটি তাদের কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তৈরি করবে। রিক্তা নামে এক প্রার্থী জানান, তার মার্কা শাপলা ফুল। স্টুডেন্টস ক্যাবিনেট নির্বাচন উপলক্ষে গত এক সপ্তাহ ধরে নানা প্রচারণা চালিয়েছি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা শিরীন সুলতানা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে উৎসবের আমেজে স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ভরে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কিশোর বয়স থেকে গণতন্ত্র চর্চা সম্পর্কে জানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া স্কুলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন শেখাতে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। পাশাপাশি এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ছাত্র ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা করবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সহজ হচ্ছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।

শেয়ার