টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে: সচিব তপন কান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোর শহরের মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানে (টাউন হল মাঠ) সাত দিন ব্যাপী আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা-২০২০’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দেশে শিল্পায়নের দরকার। আর তাই এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে গুরুত্ব দিতে হবে।
রোববার বিকেলে নীলাকাশে ফেস্টুন-বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। উদ্বোধনী পর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের জন্য ২০১৯ সালে এসএমই পলিসি নামে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণীত হয়েছে। এই নীতিমালায় ক্ষুদ্র শিল্পের অর্থায়নের জন্য বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। সেই সাথে পুণঃঅর্থায়নেরও স্কিম রয়েছে। নীতিমালায় পণ্য রপ্তানির সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার এসএমই সেক্টরের উন্নয়নে যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছে। সেক্টরটির আরো বেশি মাত্রার উন্নয়নের জন্য সরকারের পাশাপাশি এর অংশীজনদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি। আলোচনা পর্বে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী শেখ, মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব বাহিনীর যশোর অঞ্চলের প্রধান আলী হোসেন মনি, নাসিব যশোরের সিআইপি পরিচালক শ্যামল দাস, রেসকো বিস্কুট এন্ড ব্রেড ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীরুল ইসলাম সোহান, নাসিব যশোরের সভাপতি শাকির আলী, বিসিক যশোরের উপ-মহাব্যবস্থাপক ফরিদা ইয়াসমিন ও এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফাহিম বিন আসমত। স্বাগত বক্তব্য রাখের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস ও যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ।
গতকাল ৭১টি স্টল নিয়ে শুরু হয়েছে আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা। আগামী ২৯ তারিখ পর্যন্ত সকাল দশটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চলাকালে প্রতিদিন বিকেল পাঁচটা থেকে মুন্শি মেহেরুল্লাহ ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে নাচ, গান, আবৃত্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকছে। মেলাটিতে পাট, চামড়াজাত সামগ্রির পাশাপাশি হ্যান্ডিক্রাফটস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ রকমারি পণ্যের সমাহার রয়েছে। এছাড়াও এই মেলায় কৃষিজাত পণ্য, ডিজাইন ও ফ্যাশানওয়্যার ও গৃহস্থলি পণ্যেরও উপস্থিতি রয়েছে। পাশাপাশি মেলায় বেশ কয়েকটি বইয়েরও স্টল রয়েছে। মেলার আয়োজক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন (এসএমই ফাউন্ডেশন)। এটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে যশোরের জেলা প্রশাসন, বিসিক, নাসিব ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। মেলার সমাপনী দিন জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এতে অংশ নেওয়া শ্রেষ্ঠ স্টলগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে।

শেয়ার