বেনাপোলে সেই যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস নেই
কাস্টমস্ কর্মকর্তার ‘গুজব স্ট্যাটাসে’ বিব্রত স্বাস্থ্য বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার গুজব ছড়ালেন কাস্টমস কর্মকর্তা। ফেসবুক স্ট্যাটাসের এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সংবাদ সম্মেলন করে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানালো, ‘করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্তের তথ্য সত্য নয়, বিষয়টি নিছকই গুজব।’ বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর সিভিল সার্জন অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে গুজবের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন। এর আগে সকালে বেনাপোল কাস্টমস’র কমিশনার বেলাল চৌধুরী তার ফেসবুকে ‘বেনাপোলে ভারত থেকে আগত করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ট্রেনযাত্রী সনাক্তের’ স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসের পর এ নিয়ে হুলুস্থুল শুরু হয়ে যায়।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন সংবাদ সম্মেলনে জানান, বৃহস্পতিবার সকালে বেনাপোল কাস্টমস্ কমিশনার (ইনস্পিয়ারেশন্স অ্যান্ড রিফর্মস) বেলাল চৌধুরী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন ভারত থেকে আসা জহিরুল ইসলাম নামে এক ট্রেনযাত্রীকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বেনাপোল কাস্টমস হাউজ কর্মকর্তাদের তৎপরতায় প্রথম করোনা রোগী দেশে ঢোকার আগেই ধরা পড়ে।’
তার এই স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে গেলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ ওই রোগীর যাবতীয় পরীক্ষা করে কোনো ধরণের ভাইরাসের উপস্থিতি বা রোগলক্ষণ না পেয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরে আগত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত মেডিকেল অফিসার ডা. আজিম উদ্দিন ওই রোগীর স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, যাত্রী জহিরুল ইসলাম ১৯ ফেব্রুয়ারি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে করে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। কিন্তু কোলকাতা স্টেশন থেকে তাকে আর নামতে দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে খুলনা-কোলকাতা রুটের বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনে তুলে দেয়া হয়।
মেডিকেল অফিসার ডা. আজিম উদ্দিন আরও জানান, জহিরুল ইসলাম এর আগে ২৭ জানুয়ারি চীনে গিয়েছিলেন। ২৯ জানুয়ারি তিনি দেশে ফিরে আসেন। এর ২০দিন পর তিনি ভারতে গেলেও তাকে ফিরতি ট্রেনে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এসব কারণে তাকে নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বন্ধন ট্রেনে তিনি বেনাপোল পৌঁছালে তার স্ক্রিনিং ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর আইইডিসিআর’ ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়। ঢাকার কর্মকর্তার সবকিছু দেখে শুনে তাকে ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।
এছাড়া একই ট্রেনের আরেকজন যাত্রী রাজবাড়ি জেলার সুমিত ভৌমিক’র স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্ক্রিনিং করা হয়েছে। তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতে গিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি ফিরে আসেন। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি তিনি চীনে গিয়েছিলেন। ফেরত আসেন ১৩ জানুয়ারি। তার শরীরেও সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ না থাকায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন উল্লেখ করেন, মূলত কাস্টমস কর্মকর্তার স্ট্যাটাসের কারণে গুজব ছড়িয়েছে। এতে তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। বিষয়টি তারা প্রতিবেদন আকারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করবেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল চৌধুরী বলেন, সচেতনতার জন্য তাৎক্ষণিভাবে করোনা রোগী সনাক্তের বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ওই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, গুজব ছড়ানোর জন্য নয়। পরে চিকিৎসক দল পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে ওই যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস নেই। পরে তিনি আবার আপডেট স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
যা ছিল বেলাল চৌধুরীর ফেসবুক স্ট্যাটাসে:
….. বন্ধন এক্সপ্রেসে থেকে একজন করোনা ভাইরাসের রোগী সন্দেহে আলাদা করা হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা রেলের নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে একজন বিশ্বস্তসূত্রে গোপন সংবাদ পায় এবং রোগীকে সনাক্ত করে। তাৎক্ষণিক এসি উত্তম চাকমা ও আকরাম হোসেন বিষয়টি যশোর সিভিল সার্জন অফিস ও উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসকে জানায় এবং সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও নজরে আনে! সনাক্তকৃত রোগীর নাম জহিরুল ইসলাম! পিতা জয়নাল আবেদীন! বাড়ি মেঘনা, কুমিল্লা! তিনি চীন থেকে ভারতে আসেন! ভারতীয়রা বিষয়টি সম্ভবত বুঝতে পেরে তাকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে তুলে দেন। তিনিও আত্মগোপন করেছিলেন। কাস্টমস টীম চিকিৎসকদের আসা নিশ্চিত করে। বর্তমানে তিনি সিভিল সার্জন…। গত ২৯ জানুয়ারি বেনাপোল কাস্টম হাউস এ অঞ্চলে প্রথম করোনা ভাইরাস সচেতনতা সভা করে। উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তর প্রধান ও সিভিল সার্জন সহায়তা দেন। বিষয়কর হলেও #বেনাপোল-কাস্টাম-হাউস কর্মকর্তাদের তৎপরতায় এ অঞ্চলে #প্রথমÑকরোনা-রোগী-দেশে-ঢোকার-আগেই ধরা পড়ে। যে কেউ এমন রোগী দেখলে চিকিৎসক টীমকে জানান! রোগী যথাযথ পরিচর্যায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। অবহেলায় উল্টোটা ঘটে ভাইরাস ছড়িয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আগেই। আল্লাহ মহামারী থেকে আমাদের হেফাজত করুন। সবাই সতর্ক থাকুন! সচেতন থাকুন। পোস্টটি কেবল সচেতনতার জন্য প্রদত্ত! স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যথার্থ সিদ্ধান্ত নিবেন।’

শেয়ার