ইংরেজী মাধ্যম ও বাংলা মাধ্যমে শিক্ষা ।। মমতাজ লতিফ

16
বিশেষ সংখ্যা

’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের ফলে বাঙালীর শিক্ষার মাধ্যম যে বাংলা হবে, সেটি চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়ে যায়। তারপর ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র দিয়ে এর সর্বস্তরের কাজকর্মের মাধ্যমসহ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে আরও বেশি গুরুত্ববহ করে। সে সময়ে অর্থাৎ ’৭২-এ বঙ্গবন্ধু স্বদেশে ফিরে এসে সরকার গঠন করে কুদরাত-ই-খুদাকে শিক্ষা কমিশন প্রণয়ন করতে দায়িত্ব দেন। এই শিক্ষা কমিশন বাংলাকে সর্বস্তরের শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করে মাতৃভাষা বাংলার ভূমিকাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। তবে, বঙ্গবন্ধু সরকার দ্রুত গতিতে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে- অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজনীতি, আইনের শাসন ও যুদ্ধাপরাধের বিচারসহ দেশ পুনর্গঠন ও জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে সুষ্ঠু প্রশাসনিক কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন। সেই সব কর্মযজ্ঞের সূচনার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সপরিবারে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা এবং ভবিষ্যতের উঠতি নেতা শেখ নাসের, সেরনিয়াবাত, শেখ মনি, শেখ কামাল, শেখ জামাল, রাসেলসহ সবাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ এবং যুদ্ধাপরাধী মুক্ত উন্নত বাংলাদেশের নতুন স্বপ্নটিকে ধ্বংস করে দেয়।
আজকের বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার যে কর্মযজ্ঞ বিগত দশ বছর যাবত চলমান আছে, তাতে এখনও অনেক কাজ বাকি আছে। যদিও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আরব্ধ কাজের বাস্তবায়ন অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তভাবে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। বাঙালী জাতির সৌভাগ্য, একদিকে বঙ্গবন্ধুসহ অনেক নেতাকে হারিয়ে সে আবার অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন, তরুণ একদল নেতানেত্রী লাভ করেছে। এখন কথা হলো- অন্যেরা, জাতির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এই বিশাল জাতি গঠন ও উন্নয়নে অংশগ্রহণ করে স্ব স্ব ক্ষেত্রে কি কি করবে, সে ভাবনাচিন্তা ও কর্মোদ্যোগ গ্রহণের সময় এসেছে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও আমাদের অনেক কিছু করার আছে। প্রথমেই ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের বিষয়ে আলোচনা করা যাক। দীর্ঘদিন যাবত ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে আমার স্বজনদের শিক্ষা গ্রহণের ফলে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক দুটোই নজরে এসেছে। এর একটি ইতিবাচক দিক হচ্ছেÑ এ স্কুলগুলোতে অন্তত ক্লাস এইট পর্যন্ত স্কুলের বাইরে টিউশন গ্রহণ করতে হয় না। প্রায় সব শিক্ষার্থী ক্লাসের সব বিষয়ের পাঠ ক্লাসেই শিখতে পারে এবং প্রায় কেউই অকৃতকার্য হয় না। সবাই বছর শেষে পাস করে পরের শ্রেণীতে উঠতে পারে। সাধারণত দেখা যায় ‘ও’ লেভেলের পরীক্ষার আগে, ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষার আগে বছরখানেক শিক্ষার্থীরা প্রধানত গণিত, উচ্চতর গণিত, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রিতে টিউশন বা কোচিং ক্লাসে এসব বিষয়ে অতিরিক্ত পাঠ গ্রহণ করে। সাধারণত ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে এবং কলেজে এসব বিষয়ের দক্ষ, যোগ্য শিক্ষক উচ্চ শ্রেণীতে পাওয়া যায় না। যারা দক্ষ ও যোগ্য তারা কোচিং ক্লাসে পাঠদানে আগ্রহী এবং নানারকম পরীক্ষাও তাঁরা গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের ‘ও’ লেভেল, ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করে।
তবে, ইংরেজী মাধ্যমের স্কুলগুলোর সবচাইতে নেতিবাচক দিক হচ্ছেÑ এর শিক্ষার্থীরা ‘ও’ লেভেল অর্থাৎ দশম শ্রেণী শেষ করার সময় আঠারো বছরের পূর্ণ বয়স্ক হয়ে যায়। যেখানে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা ষোলো বছরে এসএসসি পাস করে। একই কারণে ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা দিতে দিতে ইংরেজী স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিশ বছর বয়সী হয়ে যায়। অথচ বাংলা কলেজে আঠারো বছর বয়সে শির্ক্ষার্থীরা ইন্টারমিডিয়েট বা এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েশনে ভর্তি হয়। আমরা যারা বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছি, তারা সবাই একুশ বছরে এমএ পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। অনার্স সে সময় তিন বছরের ছিল। সেটি চার বছরের হলে বাইশ বছরে পড়াশোনা শেষ হতো। ‘এ’ লেভেল করা ছেলেমেয়েদের এই স্কুলগুলো রীতিমতো ‘বুড়ো’ বানিয়ে দেয় শুধু এক ধরনের অনাবশ্যক শ্রেণী সংখ্যা বৃদ্ধি করে। সরকার এবং ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল ও স্কুল সমিতির কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। সবাই এ বিষয়ে একমত হবে যে- নার্সারি, প্লে-গ্রুপ, কেজি-ওয়ান, কেজি-টু- এই চার বছরের স্কুলিং-এর পরিবর্তে ক্লাস ওয়ানের আগে একটি শিশু শ্রেণী থাকাই যথেষ্ট। বাংলা মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত শিক্ষার্থীর বয়স ৬ থেকে ১০, যা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। সত্যি বলতে, ইংরেজী স্কুলের নাইন-টেনের ছাত্রদের দাড়ি, গোঁফ দেখতে দৃষ্টিকটু লাগে। ওদের দোষ নেই, অতিরিক্ত চারটি শ্রেণীতে পড়ার জন্য কমপক্ষে ওদের বয়স আঠারো হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষক-অভিভাবকদের বিবেচনাবোধ ও সহানুভূতি থাকলে ওরা এতটা ‘বুড়ো’ হয়ে স্কুল-কলেজে পাঠ গ্রহণ করত না, বরং গ্র্যাজুয়েশন শুরু করত।
আমরা যদি যুক্তরাজ্য, আমেরিকার স্কুল শিক্ষার দিকে দৃষ্টি দেই, তাহলে দেখি ওখানে শিশুরা পনেরো বছর বয়সেই স্কুল সার্টিফিকেট বা ‘ও’ লেভেল শেষ করে। এর পর পর ওরা গ্র্যাজুয়েশনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী ওরা স্কুলে ভর্তি হয় এবং স্কুল শেষ করে। ওদের ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থীরা পনেরো বছরেই সাধারণত ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেয়।
আরেকটি বড় সমস্যা- মাতৃভাষা শিক্ষা। ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের যে মানের বাংলা শিক্ষা দেয়া হয়, তাতে দেখা যায় ঐ শিক্ষার্থীরা, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র কিংবা শামসুর রাহমান, সৈয়দ শামসুল হক, নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ কিছুই পাঠ করে না। পাঠ করলেও এসব রচনার অর্থ বোঝে না। মাইকেল মধুসূদন, বঙ্কিম চন্দ্র, পরবর্তী কালের আবুল ফজল, শওকত ওসমান, আলাউদ্দীন আল আজাদ- কারও ভাষা পড়া ও বোঝার সুযোগ ওদের যেমন নেই তেমনি পড়লেও তারা বোঝে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে বাংলা সাহিত্য পড়া, পড়ে বুঝতে পারা- এই শিক্ষার্থীদের কাছে অসম্ভব থেকে যাচ্ছে। এর ফলে, এই হচ্ছে যে- এত প্রাণের মেলা, একুশের বই মেলা ওদের কাছে থেকে যাচ্ছে অবোধ্য, অনেক দূরের। এটা কোনমতেই সুখকর বিষয় নয়।
ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ইংরেজীর মান কতটা উচু, সেটি সম্পর্কে সন্দেহ থাকে। কারণ, এই শিক্ষার্থীদের ইংরেজী মাধ্যমের সাহিত্যের বড় বড় দিকপালদের কাব্য, সাহিত্য পড়তে মোটেও আগ্রহ দেখা যায় না। কোন ভাষার কাব্য-কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ না পড়া পর্যন্ত ঐ ভাষার মান আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।
বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা খুব ভাল মানের স্কুলের ভাল ছাত্রছাত্রী, তারা প্রায় সব বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষা পায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত তারাই ভাল ফল করে পিএইচডি, গবেষণা ও শিক্ষকতায় প্রবেশ করে। তাদের সংখ্যা সীমিত, কিন্তু তারাই মাতৃভাষা বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও ইতিহাসে গভীর পড়াশোনা করে। বিদেশে, পিএইচডি করতে যাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের নব্বই ভাগ এই বাংলা মাধ্যম স্কুলেরই ফসল। আশ্চর্য হলেও সত্য- এখনও, আগেও বাংলা মাধ্যমের মফস্বলের স্কুলগুলো থেকেই আগত মেধাবী শিক্ষার্থীরা শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষায় ভাল অবস্থান ধরে রেখেছে। শহরের খ্যাতনামা বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলো থেকে পাস করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণার প্রায় সব ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে ও এখনও দিচ্ছে। তাছাড়া, ক্রিকেট, ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী শতভাগ এসেছে মফস্বলের বাংলা মাধ্যম স্কুল থেকে। যাদের অনেকে ঢাকার বিকেএসপিতে পড়াশোনা ও খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। বিকেএসপি যেমন সাকিব, মুশফিক, মাশরাফিদের তৈরি করেছে, তেমনি কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার কলসিন্দুর মাধ্যমিক স্কুল অনেক কিশোরী খেলোয়াড় তৈরি করে জাতিকে ক্রীড়া জগতে সম্মান এনে দিয়েছে। একটা সত্য মানতে হবেÑ মফস্বলের স্কুলগুলোতে, কলেজে যেমন প্রশস্ত, খোলামাঠ আছে, তার কাছাকাছি পরিমাণ খেলার মাঠ ঢাকা-চট্টগ্রামের ইংরেজী মাধ্যমসহ অনেক স্কুলে নেই। স্বভাবতই এখানে শিশু-কিশোরদের দৌড়াদৌড়ি, খেলাধুলার সুযোগ সীমিত। নেই বললেই চলে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে যে অলিম্পিয়াড হয়, তাতেও বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীরা যে হারে অংশগ্রহণ করে, তার ক্ষুদ্র একটি অংশ হয়ত ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থী। ইংরেজী স্কুলে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ পালন করা হয়, কোথাও কোথাও নাটকাভিনয় হয়। কিন্তু সাধারণভাবে রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, লোক সঙ্গীত, সাধারণ সঙ্গীত, উচ্চাঙ্গ নৃত্য, নৃত্যকলা চর্চাকারীদের প্রায় সবাই বাংলা মাধ্যমের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।
দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রের মূল ধারার সাহিত্য- শিল্প বোদ্ধা এবং চর্চাকারী উচ্চমানের বাংলা না পড়া ও না বোঝার কারণে ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্বদেশের সঙ্গে নাড়ির টানটি তৈরি হচ্ছে না। তারা দেশপ্রেমিক অবশ্যই, কিন্তু দেশের সাহিত্য-সঙ্গীত-শিল্প চর্চায় অক্ষম থেকে যাওয়ায় তারা নিজেদের দেশের মাটির, প্রকৃতির, শিল্পের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করতে পারে না। এটা তাদের দোষ নয়। বরং বড়রা যারা তাদের পাঠ্যসূচী-শিক্ষাক্রমে উচ্চমানের বাংলা সাহিত্যচর্চার সুযোগ না রেখে খুবই নিরস ব্যাকরণ শিক্ষা, যা ভাষা-সাহিত্য শিক্ষায় প্রয়োজন হয় না, তা মুখস্থ করার ব্যবস্থা রেখেছেন। আসলে ব্যাকরণ শিখে মাতৃভাষা শেখা যায় না। বরং সাহিত্য-প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের কাব্য-সাহিত্য পাঠ করে এর রসাস্বাদন করার ফলে মাতৃভাষা শেখা হয় এবং নিজ জাতির গৌরব-কীর্তি উপলব্ধি করে জাতির সঙ্গে শিশু-কিশোররা একাত্ম হতে পারে। শঙ্কা হয়, এরা যদি ‘না ঘরকা, না ঘাটকা’ হয়ে বড় হয় এবং জাতির মূল সত্তাকে চিনে একে রক্ষায় চলমান লড়াই থেকে দূরে না দাঁড়িয়ে থেকে নিজেদের অপাঙক্তেয়, অপ্রয়োজনীয় না ভাবে। এমন হলে এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। এ বিষয়গুলো যেমন ভাবতে হবে তেমনি অনাবশ্যকভাবে ইংরেজী স্কুলের শিক্ষার্থীদের স্কুল পাস করতে ‘বুড়ো’ বানানোর ব্যবস্থারও পরিবর্তন করতে হবে। অর্থাৎ, চারটি অনাবশ্যক শ্রেণী বাদ দিয়ে একটি শিশু শ্রেণী যোগ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিবেচনাবোধের পরিচয় দিতে হবে।
বাংলা মাধ্যমের মফস্বলের স্কুলের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষার গুণগতমান উন্নত করতে হবে, এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। মাদ্রাসা শিক্ষা বাংলা মাধ্যমেই হয়। কেবলমাত্র কোরান-হাদিস আরবী ভাষায় রচিত বলে ঐ বিষয়গুলো আরবীতে পড়ানো হয়। এখানে বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমানে সরকারী মাদ্রাসায় পড়ানো হচ্ছে। খেলাধুলার প্রতিযোগিতার সূচনাও করা হয়েছে। সমস্যা হচ্ছে, বেসরকারী মাদ্রাসায় অনেক যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির আদর্শের শিক্ষক রয়ে গেছে, যারা মৌলবাদী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, প্রগতিবিরোধী বই-পুস্তক পড়াচ্ছে। অনেকে ছাত্রদের জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ করেছে। মাদ্রাসায় যদি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা বাংলা, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান, ইতিহাস, তথ্য প্রযুক্তিতে শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতে পারে, তাহলে মাদ্রাসার ভেতরের অবস্থারও পরিবর্তন হবে। তাছাড়া, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলেও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাঙালী জাতির মূলধারার অংশ হয়ে উঠতে পারবে। এই শিক্ষার্থীদেরকেও নজরুল, রবীন্দ্রনাথসহ সব কবি-সাহিত্যিকের রচনা পাঠ করতে সুযোগ দিতে হবে। তবে সবাইকে দুটি ভাষা এবং গণিতের মৌলিক জ্ঞান শুদ্ধভাবে শেখাতেই হবে। তাহলে তারা সারা জীবন পেশাগত শিক্ষা এবং বিনোদনমূলক শিক্ষা- সবকিছুই শিখতে পারবে অব্যাহতভাবে, সারাজীবন।