পরিকল্পনার খুঁটিনাটি আগের দিনই জানাতে হবে বিসিবি প্রধানকে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ মিরপুরে চলছিল বাংলাদেশ টেস্ট দলের প্রস্তুতি। বুধবার অনুশীলনের শুরুর দিকেই মাঠে দেখা গেল নাজমুল হাসানকে। মাঠে ঢুকে বিসিবি প্রধান কথা বললেন কোচিং স্টাফের পাশাপাশি সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে। পরে জানা গেল মাঠে তার হানা দেওয়ার কারণ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বিসিবি সভাপতি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচ পরিকল্পনা, ব্যাটিং অর্ডারের মতো ব্যাপারগুলি তাকে জানাতে হবে ম্যাচের আগের দিনই!

মাঠে হুটহাট ভাবনায় ম্যাচে একটা পরিবর্তন আনা ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। আচমকা কোনো সিদ্ধান্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অনেক অধিনায়কেরই বড় একটি শক্তির জায়গা। অনেক সময়ই মাঠের পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হয় অধিনায়ককে। তবে সৃষ্টিশীলতার সেই দুয়ার বন্ধ রেখেই এখন থেকে মাঠে নামতে হতে পারে বাংলাদেশ অধিনায়কদের। বিসিবি সভাপতি যে ম্যাচ পরিকল্পনার কথা জানতে চান আগে থেকেই!

“এই যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ হচ্ছে, এসব ম্যাচে আগে আমরা ব্যাটসম্যানদের (মূল দলের) দিতাম, তারা খেলত। বোলারদের দিতাম না। এখানে এখনকার দল যদি দেখেন, নতুন কিছু ছেলে আছে, সাইফ আছে, শান্ত আছে। আমরা এদেরকে দিতে পারতাম। যেহেতু তাদেরকে সামনেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে হবে। তাহলে নতুন ছেলেগুলো ওদের বোলিং একটু হলেও অভ্যস্ত হত, সাহস পেত। কিন্তু আমরা দেখলাম কেউই নাই। এই যে জিনিসগুলো সব অন্যরকম হচ্ছে, করতে পারে তারা, কিন্তু আমাদের জানা দরকার।”
“এই চমকটা আমি পাচ্ছি, খেলোয়াড়রাও পাচ্ছে। তাহলে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে কে? এজন্যই ডেকে বলে দেওয়া হয়েছে, কে কী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। বেসিক ব্যাপার আগের ফরমুলাতেই চলবে। ১৬ জনের স্কোয়াড নির্বাচকরা দিতে পারবেন। তারপর ১৬ হোক ১৩ হোক এখান থেকে সেরা একাদশ অধিনায়ক ও কোচ নিতে পারবেন। কিন্তু যে জিনিসগুলো হচ্ছে, আমি আগের দিন জানতে চাই গেম প্ল্যান কী।”
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান জানিয়েছিলেন, দিশা হারানো দলকে কক্ষপথে ফেরাতে নিজের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন তিনি। সেটির অংশ হিসেবে এখন থেকে তিনি জানতে চান দলের প্রতিটি পদক্ষেপ।
“এই যে হুট করে পরিবর্তনৃগত বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ থেকেই এমন হচ্ছে, তারপর আফগানিস্তান (টেস্ট) সিরিজ। পুরো চেঞ্জড। আমি যা জানতাম, তার কিছুই হয়নি। আমরা দেখেছি যারা জীবনে উপরে খেলেনি, তাদের উপরে খেলানো হয়েছে। এটা অনেক বড় পরিবর্তন।”
“পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টিও আমি দেখতে গেলাম, ব্যাটিং অর্ডার চেঞ্জড, কে কোথায় আসছে না আসছে। আমি যেটা জানতাম তা হয়নি। এই ধরণের জিনিস নিয়েই বলেছি।”
আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং অর্ডারে আমূল পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ। প্রথম আট ব্যাটসম্যানের কেবল দুই জন দুই ইনিংসে ব্যাট করেন এক পজিশনে। ওপেনিংয়ে সাদমান ও সাতে মাহমুদউল্লাহ। না জানিয়ে ব্যাটিং অর্ডারে আর পরিবর্তন না আনার কথা বলেছেন বোর্ড সভাপতি। “আমাকে বলা হবে একটা ব্যাটিং সিকোয়েন্স আর গিয়ে দেখবো এর উল্টা, এটা যেন আর না হয়।”

শেয়ার