বিশ্বজয়ী আকবর-মাহমুদুলদের গড়েছেন যিনি

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বিকেএসপিতে বিসিবি একাদশ ও জিম্বাবুয়ের প্রস্তুতি ম্যাচের লাঞ্চ বিরতি চলছিল তখন। হঠাৎ বিসিবি একাদশের ড্রেসিংরুমের সামনে জটলা। সেখানে সবার মধ্যমণি কদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আকবর আলী। বিশেষ আরও একজন ছিলেন-বিকেএসপির ক্রিকেটের প্রধান কোচ মাসুদ হাসান। আকবর, মাহমুদুল হাসানরা তার হাতেই গড়া।

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের আট জন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপির ছাত্র। যেখানে আকবর-মাহমুদুলের সঙ্গী পারভেজ হোসেন, শামীম হোসেন, তানজিম হাসান, শাহিন আলম, প্রান্তিক নওরোজ ও হাসান মুরাদ। এর মধ্যে শুধু শাহিন ও প্রান্তিক বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

আকবর, মাহমুদুল, পারভেজ মঙ্গলবার ফেরেন তাদের চিরচেনা বিকেএসপিতে, বিসিবি একাদশের হয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে। সেখানেই প্রথম সেশনের পর হাজির হয়েছিলেন মাসুদ। আকবরকে বুকে জড়িয়ে নেন। দুজন কথাও বলেন বেশ কিছুক্ষণ। পুরনো ছাত্রদের দেখে আনন্দিত মাসুদ।

“এতে সবাই আনন্দিত হবে। আমি একটা কাজ করলাম, যে উদ্দেশ্যে কাজ করেছি সেটা এখন মাঠে গড়াচ্ছে, সবাই দেখতে পারছে। আসলে নিজের কাজের মূল্যায়নও নিজে করতে পারছি।”

এখান থেকে সেখান থেকে কতবার বিকেএসপির ডেরায় ফিরেছেন আকবররা। সেই ফেরা আর এই ফেরায় কত পার্থক্য। এবার যে তাঁদের মাথায় বিশ্ব জয়ের মুকুট।

“কোথাও খেলতে পাঠালাম বা কোথাও খেলতে গেল সেটা একরকম। প্রতিদিন অনুশীলন করাচ্ছি, দেখা হচ্ছে সেটা একরকম। আর এখন এসেছে অন্য বেশে। সেই চিরাচরিত বেশ যেটা ছিল, সেটা আর নেই। তারা এসেছে ভিন্নভাবে। জাতির পুরো দৃষ্টি মনে হয়, ওদের দিকে রয়েছে। এর মানে এটার বিশেষত্ব অবশ্যই রয়েছে।”

বিকেএসপির প্রধান কোচ মাসুদ হাসানবিকেএসপির প্রধান কোচ মাসুদ হাসানতিলে তিলে যাদের গড়ে তুলেছেন তারা দেশকে এনে দিয়েছেন প্রথম বিশ্বকাপ। শিষ্যদের নিয়ে তাই গর্বের শেষ নেই মাসুদের।
“একজন কোচের সাফল্য সেখানে, যখন নিজের সৃষ্ট বা নিজের গড়া কেউ পারফরম করে। ওদের পারফরম্যান্সটা জাতি উপভোগ করছে এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে এনেছে। বিকেএসপির যে শপথ বাক্য রয়েছে এর সঙ্গে সেটা মিলে যায়।”

মাসুদের এখন নিজেকেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন মনে হচ্ছে। জানালেন, আকবরদের গড়ে তুলতে তাদের কতটা শ্রম দিতে হয়েছে।

“আমিও একজন সাধারণ নাগরিক। আমিও অনুভব করি। এটা আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। যেহেতু আমরা বেতন নিয়ে কাজ করি, এটা আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে। আমরা কী দিচ্ছি? এই অনুভূতিটা কাজ করে বলেই কাজের সময়ের বেশি অতিরিক্ত কাজ করি আমরা এই ছেলেদের গড়ার জন্য।”

“সাধারণ রুটিন ওয়ার্কে এমন ছেলে তৈরি করা কঠিন। বাড়তি অনেক কিছু করতে হয়েছে, পারফরম্যান্স যেন আরও ওপরে নেওয়া যায়। নিজের তাগিদেই এই কাজটা আমরা করি। বিশ্বচ্যম্পিয়ন ধরলে তো সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমিও গর্বিত।”

বিশ্বকাপে আকবরের ঠা-া মাথার নেতৃত্বের প্রশংসা হয়েছে অনেক। তার কোচ জানালেন, আকবরের মধ্যে এই নেতৃত্বগুণ ছিল আগে থেকেই।

“ওদের ব্যাচের মধ্যে যে সাত জন ছিল সবার মধ্যে সে ছিল খুবই ধীরস্থির। ও চঞ্চল প্রকৃতির নয়। বিষয়গুলো সামলাতে পারে সুন্দর। ও খুব ভালো চিন্তা করতে পারে। যখন খেলার সময় তখন শুধু খেলা নিয়েই চিন্তা করে। যখন সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডা দেয় তখন সেখানে অন্যরকম। বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করে। এসব তার মধ্যে ছিল। এসব দেখে আমরা বুঝেছি, সে পারবে।”

“নেতৃত্বের ব্যাপারটা ওর মধ্যে ছিল। বিষয়টা বুঝতে পারা কাকে কখন কীভাবে খেলাতে হবে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে এমনটা বুঝতে পারা বিশাল কিছু।”

শেয়ার