১৯৭৫ সালের জন্মসনদে স্কুলের দপ্তরি মুক্তিযোদ্ধা জলিল!

বাগেরহাট প্রতিনিধি ॥ শিরোনাম দেখে হয়ত অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ারই কথা, কারণ দেশকে হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল দেশ প্রেমিক সন্তানরা। ১৯৭৫ সালে জন্মনিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আব্দুল জলিল গাজী। তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে কর্মরত আছেন। আব্দুল জলিল গাজী সন্তোষপুর ইউনিয়নের কচুরিয়া গ্রামের মৃত ছহির উদ্দিন গাজীর ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ প্রধান শিক্ষককের যোগসাজগে অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদে মিথ্যা জন্ম তারিখ দিয়ে স্কুলে চাকরি নিয়েছেন তিনি। এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরও তিনি স্কুলে দপ্তরীর চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা বললেও কোন কর্নপাত না করে চাকরি করে যাচ্ছেন এবং মুক্তিযোদ্ধার ভাতাও নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ে দেয়া অষ্টম শ্রেণির সনদ দেখার পরে সবার চোখ ছানাবড়া দিচ্ছে। কারণ ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহন করে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়। আসলে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
স্থানীয় একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলে জানাযায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল জলিল গাজীর বয়স ছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর। তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি সরকার প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে সে ওই স্কুলে দপ্তরির চাকরি করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রধান শিক্ষকের সাথে সক্ষতা গড়ে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি চাকরি করছেন।
সম্প্রতি কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে রোদ পোহাচ্ছেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক বৃদ্ধ। ভালভাবে হাটতে পারেন না। তার কাছে জানতে চাইলাম বিদ্যালয়ের দপ্তরি কোথায় আছে। তিনি বললেন, আমিই দপ্তরি। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিকার করেন তার অন্যায়ের কথা। তিনি বলেন, এখানে স্কুল করার জন্য আমি জমি দিয়েছি। জমি দানের সময় কথা ছিল আমাকে চাকরি দিতে হবে। সেই জন্য প্রধান শিক্ষক আমাকে চাকরি দিয়েছেন। আর যখন চাকরি হয়েছে তখন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ছিল না। চাকরি দুই একদিনের মধ্যে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা জানান।
প্রধান শিক্ষক শাহজাহান শিকদার বলেন, যখন একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হয় তখন অনেক কিছু করতে হয়। তাই কমিটি আব্দুল জলিল গাজীকে দপ্তরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে আমি জলিল সাহেবকে বলেছি আপনি চাকরি ছেড়ে দেন।
বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার