কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে: আহমদ শফি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোর শহরের আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দড়াটানা মাদরাসার দুই দিনব্যাপী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হেফাজতে ইসলামের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি বলেছেন, ইসলামী শিক্ষা সমাপনের স্বীকৃতি হিসেবে আজকের এই ‘দস্তারবন্দী’ অত্যন্ত ফজিলতের। মাদরাসা থেকে ডিগ্রি প্রাপ্তির মর্যাদাস্বরূপ পাগড়ি পেয়ে সম্মানিত হলেন আলেমরা। পাগড়ি পাওয়া এই আলেমরা তাদের দ্বীনের আলো ছড়ানোর কাজ অব্যাহত রাখবেন।
শনিবার যশোর শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দানে দড়াটানা মাদরাসার সমাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত ইসলামী মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাদিয়ানীদের বিরুদ্ধে শহিদি প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আল্লামা শাহ আহমদ শফি বলেন, দাবি আদায়ে আমাদের কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সাত বিভাগে সম্মেলন করে এদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে। তারপর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে এদের অমুসলিম ঘোষণা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে।
দড়াটানা মাদ্রাসার মুহতামিম ও জেলা ফতোয়া বোর্ডের সভাপতি মুফতি মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মহাসমাবেশে হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি আরও বলেন, কাদিয়ানীরা কাফের। তারা ইসলামের নামে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এজন্য তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করতে হবে। তা না হলে আন্দোলন হবে। প্রয়োজনে মুসলমানদের শহিদ হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, কাদিয়ানীরা মুসলিম নয়। তাদের সাথে কোনোভাবেই আত্মীয়তার সম্পর্ক করা যাবে না। বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীদের মতো তাদের থাকতে হবে। মুসলমান হিসেবে পরিচয় দিতে পারবে না।
এর আগে তিনি টাইটেল, ইফতা, ইসলামী সাহিত্য ও কুরআনের হাফেজদের মাথায় পাগড়ি পরিয়ে দেন। মহাসম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম মোমেনশাহীর মুহতামিম আব্দুর রহমান হাফেজ্জী, খুলনা দারুল উলুমের মুহতামিম মাওলানা মুশতাক আহমদ ও যশোর রেলস্টেশন মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন জেলা ইমাম পরিষদের সদস্য মাওলানা নাসেরুল্লাহ।
এর আগে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন হেফাজত ইসলামের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফি। এরপর যশোর সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। সেখান থেকে ঈদগাহ ময়দানে মঞ্চে উঠেন। শুক্রবার সম্মেলনের প্রথম দিন দড়াটানা মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা মামুনুল হক। বিশেষ আলোচক ছিলেন ঢাকার গাউসুল আজম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী।
আর গতকাল সকাল থেকে সুন্নতি পোশাক জুব্বা, আলখেল্লা, পানজাবি ও মাথায় টুপি পরিহিত মুসল্লিরা দলে দলে ঈদগাহ্ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। বেলা বাড়তে থাকলে মুসল্লিদের জন¯্রােত বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে জনারণ্যে পরিণত হয় গোটা এলাকা। এদিন বেশ অনেক রাত পর্যন্ত শহরে ধর্মপ্রাণ মানুষের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতন। রাত সাড়ে দশটার পর আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ইসলামী মহাসম্মেলনের পর্দা নামে।

শেয়ার