অভয়নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি ॥ অভয়নগরে সড়ক দুর্ঘটনায় রবিউল ইসলাম (৪০) নামে এক ঘাট শ্রমিক ও গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মীম (১৪) নামে এক মিল শ্রমিক আত্মহত্যা করেছে। শনিবার সকালে উপজেলার প্রেমবাগ স্কুলের সামনে যশোর-খুলনা মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় রবিউল ইসলামের মৃত্যু হয় এবং এ ঘটনায় অপর দুইজন ঘাট শ্রমিক আহত হন। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত রবিউল ইসলাম বাঘারপাড়া উপজেলার ভিটাবল্লা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।
একই দিন দুপুরে উপজেলার রাজঘাট মাইলপোস্ট এলাকায় নিজ ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মিল শ্রমিক মীম। তবে মীমের আত্মহত্যা রহস্যজনক বলে দাবি করেছে এলাকাবাসী। নিহত মীম মাইলপোস্ট এলাকার মৃত মোসলেম শিকদারের ছোট মেয়ে। সে আকিজ জুট মিলে অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ করতো। পৃথক দুটি ঘটনায় অভয়নগর থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অভয়নগর-নওয়াপাড়া পৌর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা জাকির হোসেন জানান, শনিবার সকালে নছিমনে করে ঘাট শ্রমিক ও তার ইউনিয়নের সদস্য রবিউল ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলার বারবান্দা গ্রামের তৌহিদ (৩৪) ও একই গ্রামের আল-আমিন (৩৪) উপজেলার চেঙ্গুটিয়া গ্রামে এআর সিমেন্ট মিলে আসছিল। প্রেমবাগ স্কুলের সামনে পৌঁছালে খুলনাগামী দ্রুতগামী একটি ট্রাক নছিমনের পেছনে ধাক্কা মারে। এতে ওই তিন শ্রমিক আহত হয়। নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এসময় মারাত্মক আহত রবিউলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে পথীমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
মিল শ্রমিক মীমের আত্মহত্যার ব্যাপারে তার ভগ্নিপতি বলেন, মীমের বাবা-মার মৃত্যুর পর থেকে সে তার কাছে থাকে। শনিবার সকাল থেকে মীম ঘরে একাই ছিল। দুপুরে প্রতিবেশী এক বন্ধু ফোন করে জানায় মীম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কি কারণে মীম আত্মহত্যা করেছে তা তিনি বলেতে পারেননি। মীমের বড়বোন বিলকিছ তার বোনের আত্মহত্যার বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনের চাল দেয়া কাঠের ঘরের মাঝ বরাবর বাঁশের সাথে ফাঁস দেয়া ওড়না পেঁচানো আছে। ঘরের মধ্যে চানাচুর ভাজা ও চাটনি অর্ধেক খাওয়া অবস্থায় পড়ে আছে, পাশে একটি মোবাইল ফোনে গান বাঁজছে। বিছানা এলোমেলো।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অভয়নগর থানার এসআই আনিচুর রহমান জানান, আত্মহত্যা না হত্যাকা- তা ময়না তদন্তের পর বলা সম্ভব হবে। তবে প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেশী এক নারী জানান, বেলা সাড়ে ১১ টার সময় তিনি মীমদের বাড়ির পাশে ঘাস কাটছিলেন। এসময় তিনি মীমের কন্ঠে আপারে আপারে বলে দুইবার চিৎকার শুনেছিলেন। তার কিছুক্ষন পর জানতে পারেন মীম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য থানা পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।
এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় রবিউল ইসলাম নামে এক ঘাট শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘাতক ট্রাকটি আটকের জন্য অভিযান চলছে। মীমের আত্মহত্যার ঘটনাটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পৃথক ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার