যশোরে হাফেজ তরিকুল ইসলাম হত্যা
তিন ‘কিশোরের’ সাজা, ১০ বছর আটকাদেশের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের বকচরের চাঞ্চল্যকর হাফেজ তরিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে ৩ কিশোরের ১০ বছর করে আটকাদেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে মামলায় ২ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। বুধবার যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) টি এম মুসা এ রায় প্রদান করেন। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন নিহত তরিকুল ইসলামের মা এ মামলার বাদী রহিমা খাতুন।
আটকাদেশপ্রাপ্তরা হলো, শহরের বকচর খুলনা রোডের কামাল হোসেনের ছেলে সামিউল আলিফ, বকচর বিহারী কলোনির নুরুল হকের ছেলে ইকরামুল হক তুহিন ও নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়ার আকবর আলী বাবু ওরফে লেদ বাবুর ছেলে রাহিম। খালাসপ্রাপ্ত ২ কিশোর হলো, শেফাত ও মনির। সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন (পিপি) এম ইদ্রিস আলী।
তিনি বলেন, হাফেজ তরিকুল ইসলাম হত্যাকা-ে সাজাপ্রাপ্ত তিন জন অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছিলো। রায় ঘোষণা সময় তারা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বিচারক তাদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে নিহতের মা রহিমা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রায়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তার ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিল। যারা তার ছেলেকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছিল তিনি তাদের ফাঁসি চান। তিনি আরো বলেন, আসামি পক্ষ তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি এ প্রস্তাব ঘৃণিতভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, যশোর শহরের বকচর হুশতলা এলাকার মোজাহার আলীর ছেলে তরিকুল ইসলামকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর সন্ধ্যায় দুই সন্ত্রাসী কথা আছে বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তাকে মোটরসাইকেলে বকচর জোড়া মন্দিরের পিছনে যাওয়ার পর আরো কয়েকজন সন্ত্রাসীকে ডেকে আনে ওই দুই সন্ত্রাসী। রাত পৌনে ৮ টার দিকে ১০/১২ জন সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মা রহিমা খাতুন বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন।
ওই মামলার আসামিরা হলো, শহরের নীলগঞ্জ তাঁতীপাড়ার লেদ বাবুর ছেলে রাহিম, বকচর খুলনা রোডের কামাল হোসেনের ছেলে আলিফ, বকচর বিহারী পাড়ার টুলুর ছেলে মান্নু, বকচর হুশতলার শাহাজানের ছেলে কামরুল ইসলাম, বকচর বিহারী কলোনির নুরুল হকের ছেলে তুহিন, বকচর হুশতলার বাচ্চু মিয়ার ছেলে আসাদ, বারান্দী মোল্যাপাড়ার বাবু ড্রাইভার ওরফে বান্দাজের ছেলে মিন্টু ওরফে বুনো মিন্টু, বারান্দীপাড়া কদমতলা রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শিপন ওরফে লম্বা সিপন, সিটি কলেজপাড়ার সোবহানের ছেলে মোমিন ওরফে পাউডার মোমিন ও বকচর বিহারী কলোনির জাহাঙ্গীর।
মামলা তদন্তে পুলিশ আলিফ, রাহিম, তুহিন, শেফাত এবং মনিরসহ ৫ কিশোর এবং প্রাপ্ত বয়স্ক আরো ৫ জনের এ হত্যাকা-ে জড়িত থাকার তথ্য পায়। এ কারণে পুলিশ আদালতে পৃথক দুইটি চার্জশিট দাখিল করে। গতকাল বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) ৫ কিশোর অপরাধীর রায় প্রদান করেন। রায়ে আলিফ, তুহিন ও রাহিমের ১০ বছর করে আটকাদেশ প্রদান করা হয়। এছাড়া অপর ২ কিশোর শেফাত ও মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস প্রদান করেন। প্রাপ্ত বয়স্ক ৫ জন অন্য আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন।

শেয়ার