যশোরের দুটিসহ ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন
মুজিব বর্ষে আলোকিত করা হবে প্রতিটি ঘর: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ যশোরের সদর ও মণিরামপুর উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন হয়েছে। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দুই উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধন করেন। এদিন সকালে যশোরের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রশাসন ও বিদ্যুত বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মিলিত হন। সেখান থেকে তারা এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই উপেজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের উদ্বোধনে অংশ নেন। পরে তারা বেলুন উড়িয়ে ও মিছিল বের করে আনন্দ প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টি পুরোপুরি বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকী জেলা ও উপজেলাগুলোও শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে এসে মুজিব বর্ষে প্রতিটি ঘর আলোকিত করা হবে। এই লক্ষ্য পূরণে কাজ চলমান রয়েছে।
গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭ জেলা ও ২৩ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং ফেনীতে ভারি জ্বালানি তেলচালিত ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই অনুষ্ঠান থেকে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারেরও উদ্বোধন করা হয়।
জেলার বিদ্যুৎ বিভাগ মতে, শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিতের লক্ষ্যে যশোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ এর অধীনে সদর উজেলায় ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার নতুন লাইন বসানো হয়েছে। এছাড়া নির্মাণ করা হয়েছে ৭৫ এমভি ক্ষমতার ৫টি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র। এ কাজে ব্যয় করা হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা। সদরের ৫২টি গ্রামে মোট সংযোগ হলো ১ লাখ ২২ হাজার ১৯১টি।
এদিকে মণিরামপুর উপজেলায় ২ হাজার ১৯৩ কিলোমিটার জুড়ে লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলাতে নির্মাণ করা হয়েছে ৪০ এমভি ক্ষমতার ৪টি উপকেন্দ্র। আর এই কাজে ব্যয় হয়েছে ৩৫১ কোটি টাকা। উজেলার ২৪৮টি গ্রামে গ্রাহকের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৮৩৩।
ভিডিও কনফারেন্সের সময় যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, বিদ্যুত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ তানিয়া খান, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী শেখ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মী ইসলাম, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিশ্বনাথ শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদ, যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ, সাধারণ সম্পাদক শাহারুল ইসলাম, মণিরামপুর পৌর মেয়র অধ্যক্ষ কাজী মাহামুদুল হাসান প্রমুখ।
এদিকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসা দেশের সাত জেলার মধ্যে রয়েছে ঢাকা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, জয়পুরহাট ও মেহেরপুর। এছাড়া শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে দেশের ২৩ উপজেলা। যার মধ্যে রয়েছে বাগেরহাট সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মোহনগঞ্জ, দিনাজপুরের খানসামা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, যশোরের সদর ও মণিরামপুর, খুলনার তেরখাদা, কুষ্টিয়ার মিরপুর, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও জুড়ী, নওগাঁর বদলগাছি ও পতœীতলা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, নীলফামারীর জলঢাকা, শেরপুরের নকলা ও ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল এবং সুনামগঞ্জের ছাতক।
গনভাবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম ও বিদ্যুত বিভাগের সচিব সুলতান আহমেদ নিজ নিজ বিভাগের পক্ষ থেকে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।

শেয়ার