দেশে এলো বিশ্বকাপ
আকবরদের লালগালিচা সংবর্ধনা, কেক কেটে উদযাপন

সমাজের কথা ডেস্ক॥ বাংলাদেশকে প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা এনে দেওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পৌঁছেছে ঢাকায়। গত ৩ জানুয়ারি অনেকটা নীরবে দেশ ছেড়েছিল আকবর আলীর দল। ফেরার পালায় চিত্রটা পুরো ভিন্ন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জন, বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে তাদের ফেরার দিনে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছে ভক্ত-সমর্থকদের ঢল।
বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করে দলকে বহনকারী বিমানটি। এখান থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যাবে বিশ্বজয়ীরা। তাদের বরণ করতে নতুন সাজে সেজেছে ‘হোম অব ক্রিকেট’।
আর ট্রফি হাতে বিশ্বজয়ীরাবীরেরা ফিরছে বিশ্বজয় করে, সেই দুপুর থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সামনে ক্রিকেটামোদীর ভিড়। ধাতব ট্রফিটি হাতে কখন আসবেন আকবর আলীরা, অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছিল না তাদের। অবশেষে ‘চ্যাম্পিয়ন’ স্টিকারে মোড়ানো গাড়ি মিরপুরে পৌঁছাতেই বাধভাঙা উল্লাস। স্লোগান-স্লোগানে মিরপুরের আকাশে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের রেনু।
অপেক্ষায় ফল নাকি মিষ্টি হয়! মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা সেটিই পেলেন। তাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড। সেখান থেকেই তারা সরাসরি উপভোগ করেছেন বীরদের বরণের মুহূর্ত। লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে, দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগানে বরণ করে নেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট জয়ীদের। আনন্দ যেন সীমাহীন।
বিসিবির অন্যতম পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জামাল ইউনুসও এই দলে। তার কাছে এই দিনটি জীবনের সেরা, ‘এর চেয়ে খুশি আমি কখনও হয়নি। এই মুহূর্তটা আজীবন মনে থাকবে।’
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বললেন, এই অর্জন অনেক পরিশ্রমের ফল। যুবাদের হাত ধরে আসার সাফল্যের ধারা সামনেও ধরে রাখার প্রতিজ্ঞা উৎসবের দিনে। বিসিবির কর্তা অনুভূতি ভাগাভাগি করলেন এভাবে, ‘খুব ভালো লাগছে, এটা আমাদের বিনিয়োগের ফল। অনেক পরিশ্রমে এসেছে দিনটি। আশা করি ওদের হাত ধরেই আরও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’
বিশ্বজয়ীদের বরণ করে নিতে মিরপুর স্টেডিয়ামে ছিল নানা আয়োজন। মাঠের মাঝেই বানানো হয়েছে মঞ্চ। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে মাঝের করিডোর ধরে পাতা হয় লাল গালিচা, সেখান দিয়ে হেঁটেই মঞ্চ ওঠেন বিশ্বজয়ী দল। মঞ্চেই কেক কেটে তাদের জানানো হয় শুভেচ্ছা। অধিনায়ক আকবরকে কেক খাইয়ে দেন বোর্ড প্রধান নাজমুল। পরে খেলোয়াড়রা ট্রফি উঁচিয়ে উদযাপনে মাতেন সমর্থকদের সঙ্গে।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকের ভিড়এর আগে বুধবার বিকেল ৫টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে চ্যাম্পিয়নদের বহন করা বিমানটি। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যুবাদের সঙ্গে একই গাড়িতে মিরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন বিসিবি প্রধান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুরে পৌঁছায় বিশ্বজয়ীদের বহন করা গাড়ি। হোম অব ক্রিকেটকে আগেই সাজানো হয়েছে অনেকটা বিয়ে বাড়ির সাজে।
বিশ্বকাপের আগে কন্ডিশনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পচেফস্ট্রুমে এক সপ্তাহের ক্যাম্প করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। প্রস্তুতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না; নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কেবল ১১২ রানে গুটিয়ে গিয়ে হারতে হয়েছিল। দ্রুত নিজেদের সামলে নিয়ে মূল টুর্নামেন্টে উজ্জ্বীবিত ক্রিকেট খেলে তানজিম হাসান-রকিবুল হাসানরা।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের মেলে ধরে চূড়ায় থেকে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলে বাংলাদেশ। সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে দলটি। পরে রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে জেতে শিরোপা; যে কোনো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা। ফাইনালের পরদিন আইসিসির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা। এবার বিশ্ব জয়ের মুকুট পরে ফিরল দেশে। সময়টা উৎসবে আনন্দে মেতে ওঠার।

শেয়ার