সাতক্ষীরা জেলা জাসদের কাউন্সিলে কমিটি গঠন

আব্দুল জলিল, সাতক্ষীরা॥ আইনের শাসন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত কর, চলমান দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান জোরদার কর, জঙ্গিবাদ-সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল কর, শান্তি ও উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নাও, বৈষম্যের অবসান কর এবং সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাও এই স্লোগানকে সামনে রেখে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১০ জানুয়ারি সোমবার সকাল ১১ টায় সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও জেলা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটি ২০২০ এর আহবায়ক শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলু। উদ্বোধক হিসাবে বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ।
প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. রবিউল আলম। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার কী আ’লীগ সরকার পালন করছে ? মেগা প্রজেক্টের আড়ালে পড়ে যাচ্ছে দুর্নীতি। শ্রমজীবীদের ভুলে যেয়ে রাজনীতি হতে পারে না। প্রান্তিক জনগণের ঘরে সুখ ফিরিয়ে দিতে হবে। ধর্মীয় উগ্রতা সভ্যতাকে মুক্তি দিতে পারে না। ধর্মান্ধতা মানুষকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গণতন্ত্রের পরিপন্থী হচ্ছে মৌলবাদ, ধর্মীয় উগ্রবাদ। আমলারা লুটপাট করছে। সর্বত্র ভোগবাদের জন্ম হয়েছে।
জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন লস্কর শেলীর পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব নাদের চৌধুরী।
সাবেক এই ছাত্র নেতা তার বক্তব্যে বলেন, ‘বর্তমান সরকার মহাজোটের সরকার। এ সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা আমাদের ঘাড়েও পড়ে। সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডে আমরা যেমন খুশি হই, তেমনি ব্যথিতও হই। জাসদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। জিয়াউর রহমান জাতীয় বিশ্বাসঘাতক। ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, দুর্নীতি, লুটতরাজের কারণে বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। ধর্ম ব্যবসায়ীরা খেকশিয়ালের অভিনয় করছে। চলমান দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকুক। সুশাসনের কোন বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুর রহমান চুন্নু। সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ (জাসদ) সভাপতি তুখড় এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘জাসদ বাংলাদেশকে তার নিজ কক্ষ পথে রেখেছে। ১৪ দলকে চোখের মনির মতো করে আগলে রেখেছে জাসদ। সমাজতন্ত্র ছাড়া গণতন্ত্র সম্ভব না। সমাজতন্ত্রই মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরণ করতে পারে। সরকারের উন্নয়নের সুফল জনগণ পাচ্ছে না। বেকারদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে হবে। ঋণের টাকায় আমরা উন্নয়ন করছি। দুর্নীতি, অনিয়মের ক্ষেত্রে জাসদ ছাড় দেবে না। আমার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য রাজপথে ছিলাম। প্রশাসনের উদ্যেশে তিনি বলেন ‘মহাজন /তালুকদার সাজবেন না। মেহনতি মানুষের ট্যাক্সের টাকায় আপনারা চলেন’।
জাতীয় কৃষকজোট, কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-এলাহি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে জাসদের সৃষ্টি। শ্রমিক শ্রেণীর দাবী প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।
জেলা জাসদের কাউন্সিল অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সাতক্ষীরা জেলা কমিটির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক এড. ফাহিমুল কহ কিসলু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জাসদের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ওয়ার্কার্স পার্টি যুক্ত। দেশে এখন সুশাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না ।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য স.ম রেজাউল করিম, দেবহাটা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আ: ওহাব, শ্যামনগর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান, তালা উপজেলার সভাপতি বিশ্বাস আবুল কাশেম, যুবজোটের মিলন ঘোসাল, ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আ: আলিম প্রমূখ।
কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শেখ ওবায়েদুস সুলতান বাবলুকে সভাপতি, অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহীকে সহ-সভাপতি, জাকির হোসেন লস্কর শেলীকে সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজকে সদস্য করে একটি আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন।

শেয়ার