করোনাভাইরাসের দিনে গণবিয়ে

সমাজের কথা ডেস্ক॥ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী গণবিয়েতে যোগ দিয়েছে কয়েক হাজার যুগল।

শুক্রবার সিউলের উত্তরপশ্চিমের গ্যাপিঅংয়ের চেয়ং শিম পিস ওয়ার্ল্ড সেন্টারের এ আয়োজনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদের মধ্যে অন্তত ছয় হাজার যুগলই প্রথমবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস শঙ্কা ছায়া ফেলেছিল এদিনের গণবিয়েতেও। সে কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিফিকেশন চার্চের কর্মীরা উপস্থিতদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও সার্জিকাল মাস্কসহ নানান উপকরণও রেখেছিলেন। সবার শরীরের তাপমাত্রাও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।
অবশ্য এরপরও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ যুগলকে মাস্ক ছাড়াই দেখা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
“স্বামীর কাছে যেন সুন্দর লাগে, এ জন্য আমি মাস্ক পরিনি,” বলেছেন গণবিয়েতে অংশ নেওয়া ২৩ বছর বয়সী কনে নগুসেন মিঅংগুয়েত ওয়ালেহেত।
বেনিনের বাসিন্দা এ নারীর আরেক উদ্দেশ্য ছিল ‘ট্রু মাদার’ খ্যাত হাক জা হান মুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ। যে গির্জার অধীনে এ গণবিয়ে, হাক জা হান দক্ষিণ কোরিয়ার সেই ইউনিফিকেশন চার্চের প্রতিষ্ঠাতা সুং মিয়ং মুনের স্ত্রী। শুক্রবারের অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এ চার্চটি প্রতিষ্ঠা করে মুন নিজেকে ও স্ত্রীকে ‘মেসিয়াহ’ ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৬১ সাল থেকে ২০০২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার অধীনেই এ গণবিয়ে হতো।
চলতি বছর মুনের জন্মশতবর্ষ হওয়ায় জনসমাগম বেশি হবে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল।
“আশীর্বাদের এ গণবিয়েতে অংশ নিতে পেরে আমি খুশি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় আমি সাবধানতা হিসেবে মাস্ক পরেছি। কিন্তু অনুষ্ঠান মিস করিনি,” বলেছেন ৩৫ বছর বয়সী লি কেঅন-সিওক।
কালো রঙের স্যুটের সঙ্গে মিলিয়ে তার মাস্কও ছিল কালো, স্ত্রীর সাদা রঙের মাস্কও ছিল পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে।

শেয়ার