৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ
যশোরে নির্মাণ হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের অত্যাধুনিক ভবন

জাহিদ হাসান
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দীর্ঘ ৫৬ বছরের পুরাতন জরাজীর্ণ ভবন ও ব্যারাক ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। পুরাতন ভবন ভেঙ্গে অপসারণ হলেই নির্মাণ করা হবে তিন চারতলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ভবন। ভবনটি নির্মাণের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জায়গা চিহ্নিত, প্রস্তাবিত বাজেট, টেন্ডার ও মূল নকশা অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মতিয়ার রহমান।
সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে যশোর শহরের ভোলা ট্যাংক রোডে দুই একর জায়গার উপর অবস্থিত হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস। জনবলের অভাব না থাকলেও ৪০ বছরের পুরাতন দুটি গাড়ি ও কিছু যন্ত্রপাতি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন এ অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পুরনো এই ভবন বয়সের ভারে ছাদের প্লস্টার উঠে জীর্ণ হয়ে পড়ে। তাছাড়া জায়গার অভাবে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি রাখার জায়গা, জরুরি নথিপত্র সংরক্ষণ করা ও ফায়ারম্যানদের একই রুমে এলোমেলো অবস্থায় তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হচ্ছে। পাশের ভবনে স্টাফদের ব্যারাক ছিলো। এখানে নিয়মিতভাবে বসবাস করতেন ৩৫ জন। ব্যারাকের কক্ষগুলোর বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও ছাদের পলেস্তারা খুলে রড বেরিয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, গাড়ি রাখার জায়গায়ও স্টাফদের ব্যারাকের বীমের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা ও জেলা ডিফেন্সের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে অত্যাধুনিক ভবন দিচ্ছে সরকার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অফিস জানায়, যশোর ফায়ার স্টেশনের বর্তমানে পুরাতন দুইটি ভবন ভেঙ্গে ২০ শতক জমির ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চার তলা ভবন নির্মাণ হবে। যার প্রথম তলায় ৯ হাজার ৬২ বর্গফুটের উপর ৩০ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন নির্মাণ করা হবে গ্যালোন (পানির ট্যাংক), গাড়ি রাখার জায়গা, তথ্য কেন্দ্র ও কন্ট্রোল রুম। ২য় তলায় থাকছে স্টেশন ব্যারাক এবং ফায়ারম্যানদের বাসস্থান। ৩য় তলায় থাকছে জেলা ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর অফিস ও জেলা কর্মকর্তার অফিস। ৪র্থ তলায় থাকছে জেলা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের বাসস্থান।
এ বিষয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘ ৫৬ বছরের ভবনে দীর্ঘদিন অফিস করছিলো ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা। জায়গা সংকট ও নানাবিধ সমস্যার জন্য চার তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন একটি ভবন দিচ্ছে সরকার। এটা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। ইতোমধ্যে জায়গা চিহ্নিত, প্রস্তাবিত বাজেট, টেন্ডার ও মূল নকশা অনুমোদন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পুরনো ভবন অপসারণের কাজ চলছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৪ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে এ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ভবন নির্মাণ হলে জেলা ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কার্যক্রম গতিশীল হবে।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ যশোরের সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম বলেন, জেলা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। গণপূর্ত বিভাগ ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিলো। ভবন ভেঙে একই স্থানে আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবন ভাঙা হলে চলতি বছরের মার্চ মাসে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে।